“বাংলায় থাকবে, আর আমার পোস্টার ছিঁড়বে? এত সাহস!”-২১শের মঞ্চে ক্ষুব্ধ TMC নেত্রী মমতা

তৃণমূল কংগ্রেসের ২১ জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’ সমাবেশ থেকে ফের একবার কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার এবং রাজ্যে তাদের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিজের পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে তিনি যেমন কড়া বার্তা দিয়েছেন, তেমনই কাশ্মীর পরিস্থিতি এবং বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

আজ ধর্মতলার জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলায় থাকবে, আর আমার পোস্টার ছিঁড়বে? এত সাহস!” তাঁর এই মন্তব্যে নিজের পোস্টার ছেঁড়ার ঘটনা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে যে তিনি কতটা ক্ষুব্ধ, তা স্পষ্ট। এই উক্তি বিরোধীদের প্রতি এক কড়া হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলার মাটিতে এমন কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না।

এরপরই মমতা দেশের জাতীয় সুরক্ষা এবং কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন। সম্প্রতি পহেলগামে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আগে পহেলগাম সামলাও, কাশ্মীরকে সামলাও।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাশ্মীর নীতির ব্যর্থতা এবং সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যেখানে দেশে অন্যান্য জায়গায় সমস্যা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাড়াবাড়িকে তিনি অযৌক্তিক বলে মনে করেন।

রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা আরও বলেন, “আমাদের এখানে কেন সেন্ট্রাল ফোর্স। বাংলায় স্টেট ফোর্স কাজ করবে।” তাঁর এই বক্তব্য রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে এক স্পষ্ট প্রতিবাদ। তিনি চান, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রাজ্যের পুলিশ বাহিনীই দেখভাল করুক।

শেষে, বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মমতা বলেন, “চ্যালেঞ্জ করছি, কত লোককে জেলে জায়গা দিতে পারবেন? আমার চ্যালেঞ্জ রইল বিজেপি পার্টির কাছে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ভয় দেখিয়ে বা মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে তৃণমূল কর্মীদের দমন করা যাবে না। তিনি দলের কর্মীদের যে কোনো পরিস্থিতিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন এবং বিজেপির ক্ষমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক ভাষণ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রণনীতি এবং কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের তীব্রতাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিল। বাংলার আত্মমর্যাদা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপ এবং বিরোধী দলের বিরুদ্ধে তাঁর কড়া বার্তা – সব মিলিয়ে এই ভাষণ জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করবে।