‘বাংলা ভাষার ওপর সন্ত্রাস চলছে, প্রয়োজনে আবার ভাষা আন্দোলন হবে” – মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

একুশে জুলাইয়ের শহীদ সমাবেশ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনআরসি, বাঙালি নির্যাতন এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি একটি কাগজ তুলে ধরে দাবি করেন যে, অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নাকি কেন্দ্রীয় সরকার একটি করে সার্কুলার পাঠিয়েছে, যেখানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে এক মাস পর্যন্ত আটক করে রাখার কথা বলা হয়েছে। এই নির্দেশিকাকে ‘বাঙালি বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এটি ঘুরপথে এনআরসি কার্যকর করার একটি চক্রান্ত।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলার ওপর সন্ত্রাস চলছে।” তাঁর অভিযোগ, “বিজেপি এখন ঠিক করে দিতে চায় যে কে কী খাবে, কে মাছ খাবে, কে কার মাথা খাবে।” মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “যাকে যাকে ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক করা হয়েছিল, তাদের মামলা করে ছাড়িয়ে এনেছি আমরা। এরা বাংলা ভাষায় কথা বলত বলে।” তিনি দাবি করেন, এ পর্যন্ত হাজার হাজার বাঙালিকে আটক করা হয়েছে এবং ওড়িশা, দিল্লিতে বাঙালিদের ওপর ‘অত্যাচার’ চলছে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, “আমাদের কোনও ভাষার বিরুদ্ধে সমস্যা নেই। কিন্তু বাংলার ওপর কেন সন্ত্রাস হবে? প্রয়োজনে আবার ভাষা আন্দোলন হবে।”

মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তম ব্রজবাসীকে ডেকে নেন, যিনি দাবি করেন যে ৫০ বছর ধরে কোচবিহারে বসবাস করা সত্ত্বেও তাঁকে অসম থেকে এনআরসি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ভোটের সময় বিজেপি রাজবংশীদের কাছে টানে, তারপর তাদের ওপর অত্যাচার করে।

শুভেন্দু অধিকারীর নাম না নিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতেও তোপ দাগেন মমতা। কয়েকদিন আগে শুভেন্দু দাবি করেছিলেন যে, পশ্চিমবঙ্গে ১৭ লাখ রোহিঙ্গা আছে এবং তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে কাটতে হবে। এর পাল্টা জবাবে মমতা বলেন, “জাতিসংঘের হিসেবে সারা বিশ্বে ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সেটা বেড়ে সর্বোচ্চ ১৩-১৪ লাখ হবে। আপনি কীভাবে বলছেন সতেরো লক্ষ? একটু পড়াশোনা করে বলা উচিত তো।”

কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জুলাই মাসে আমাদের চিঠি পাঠিয়েছে। ওরা সেন্ট্রাল ফোর্স থেকে নোডাল অফিসার তৈরি করবে, যারা মানুষকে ভোটার লিস্ট থেকে বাদ দেবে। বাংলা ভাষার উপর সন্ত্রাস চলছে। কে মাছ-মাংস-ডিম খাবে, সব ওরা ঠিক করে দিচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “বিজেপির চক্রান্ত, নির্বাচন কমিশনের চক্রান্ত, গদি মিডিয়াও আছে। আগের বার বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল। আমাদের রাজ্যে পাঠায়নি। কেন্দ্র সরকার নোটিফিকেশন দিয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যে বলছে একমাসের জন্য যাকে সন্দেহ হবে জেলে আটকে রাখবে ডিটেনশন ক্যাম্প করে। যার জন্য একহাজারের বেশি লোককে বাংলাদেশে, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানের জেলে ঢোকানো হয়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক মন্তব্যগুলি রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে এবং আগামী দিনে এই বিষয়গুলি নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।