“এটা কোনও সভা নয়, পাগলু ডান্স হবে”! ২১শে জুলাই সমাবেশ ঘিরে কটাক্ষ শুভেন্দুর

আজ, ২১শে জুলাই, রাজ্য রাজনীতিতে একই দিনে দুটি বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। একদিকে কলকাতার ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের মেগা শহিদ সমাবেশ ঘিরে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকের ভিড় জমেছে, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে ‘উত্তরকন্যা অভিযান’-এর ডাক দিয়েছে বিজেপি। দক্ষিণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং উত্তরে শুভেন্দু অধিকারীর এই যুগপৎ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি।
ধর্মতলায় তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার আগে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই সমাবেশকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। বিরোধীদের বরাবরের অভিযোগ, ২১শে জুলাই কোনো শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি তৃণমূলের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি, যার সঙ্গে শহিদ পরিবারের পাশে থাকার কোনো সম্পর্ক নেই।
উত্তরকন্যা অভিযানে যাওয়ার আগে সোমবার কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী আবারও একই কথা বললেন একুশে জুলাই প্রসঙ্গে। শুভেন্দুর কটাক্ষ, “এটা কোনো সভা নয়, পাগলু ডান্স হবে।” তিনি আরও বলেন, “নাচতে নাচতে আসছে দেখছেন না? জলঙ্গি থেকে বাসের ভেতরে নাচতে নাচতে আসছে বাজনা বাজিয়ে। পুরুলিয়া থেকে জোর করে যাদের আনা হয়েছে তারা ইতিমধ্যেই পালিয়েছে। জোর করে লোক আনিয়েছে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “২১ জুলাই কোনো শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠান নয়, রাজনৈতিক কর্মসূচি তৃণমূলের। বহু মানুষ অনেক রেল স্টেশনে এসে ফিরেও চলে গেছে।”
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটিই তৃণমূলের শেষ ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশ। এই সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমাবেশ থেকেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব আগামী বিধানসভা নির্বাচনের কৌশল ও দিশা নির্দেশ করবেন, যা আসন্ন নির্বাচনে দলের রোডম্যাপ তৈরি করবে।
একুশে জুলাইয়ের এই দুই ভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র সংঘাত আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠলো।