স্বল্পমূল্যে ঝাঁ চকচকে ফ্ল্যাট দিচ্ছেন মমতা! আজ থেকেই শুরু আবেদন?

গ্রামীণ এলাকায় ‘বাংলার বাড়ি আবাস যোজনা’র বিপুল সাফল্যের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের শহুরে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাথার উপরে পাকা ছাদ গড়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার শুরু করল ‘সুজন্ন নিজন্ন হাউসিং প্রজেক্টস’। কলকাতার নিউটাউনে উদ্বোধন হওয়া এই দুটি হাউসিং কমপ্লেক্সের মূল উদ্দেশ্য হলো, রাজ্যের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বল্পমূল্যে নিজস্ব পাকা ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করে দেওয়া।

প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণ:
মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সুজন্ন নিজন্ন হাউসিং প্রজেক্টস’-এর উদ্বোধন করেছেন। এই প্রকল্পের আওতায় দুটি পৃথক আবাসন তৈরি হচ্ছে:

নিজন্ন: নিউটাউন এলাকার মধ্যে ৩০০ বর্গফুট আয়তনের ৪৯০টি এক কামরার ফ্ল্যাট তৈরি করা হচ্ছে। ১৫ তলা এই আবাসনের ফ্ল্যাটগুলির দাম অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে রাখা হবে বলে জানা গেছে, যা মূলত রাজ্যের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে।

সুজন্ন: এই প্রকল্পে ৬২০ বর্গফুট আয়তনের ৭২০টি দুই কামরার ফ্ল্যাট থাকবে। ১৬ তলা উঁচু এই আবাসনটি নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির কথা চিন্তা করে শুরু করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুটি প্রকল্প মিলিয়ে মোট ১২১০টি ফ্ল্যাট ৭ একর জমির উপর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এই আবাসন প্রকল্পের জন্য রাজ্যের মোট ২৯০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্যে সরকারি জমি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমান বাজার মূল্যের তুলনায় অনেক কম দামেই এই ফ্ল্যাটগুলি বিক্রি করা হবে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানান। এক কথায়, সুজন্ন নিজন্ন দুটি প্রজেক্টই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করা মানুষদের জন্য একটি স্বপ্ন পূরণের চাবিকাঠি।

আবেদনের পদ্ধতি ও স্বচ্ছতা:
‘সুজন্ন নিজন্ন হাউসিং প্রজেক্টস’-এর ফ্ল্যাট কেনার জন্য ইচ্ছুক আবেদনকারীরা পশ্চিমবঙ্গ আবাসন পর্ষদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন মাধ্যমে আবেদন জানাতে পারবেন। যেহেতু রাজ্যের বিপুল সংখ্যক বাসিন্দার তুলনায় ফ্ল্যাটের সংখ্যা সীমিত, তাই আবেদনের উপর ভিত্তি করে লটারির মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী সহ রাজ্যের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদ্ধতির ফলে যথেষ্ট পরিমাণে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। আগামী ১লা আগস্ট, ২০২৫ থেকে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

সুজন্ন নিজন্ন ছাড়াও অন্যান্য আবাসন প্রকল্প:
বঙ্গ রাজ্যের নিম্ন আয়, মধ্য আয় এবং উচ্চ আয়ের পরিবারগুলির জন্য কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি আবাসন গড়ে উঠছে। কলকাতার পাশাপাশি কৃষ্ণনগর এবং কল্যাণীতেও এই ধরনের আবাসন প্রকল্পগুলি শুরু করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

পূর্বিক হাউজিং কমপ্লেক্স, কলকাতা (HIG – Higher Income Group)

সানলাইট হাউজিং কমপ্লেক্স, কলকাতা (LIG – Lower Income Group)

গুড সুস্থ মৈত্র স্মৃতি আবাসন, কৃষ্ণনগর (MIG – Middle Income Group)

কল্যাণী হাউজিং প্রোজেক্ট ইত্যাদি।
এই সমস্ত আবাসন প্রকল্পগুলির মাধ্যমে ফ্ল্যাট কিনতে চাইলে, সবার আগে অনলাইন মাধ্যমে আবেদন জানাতে হবে এবং সর্বনিম্ন বুকিং অ্যামাউন্ট জমা করতে হবে।

সুজন্ন নিজন্ন হাউসিং কমপ্লেক্সের সুবিধা:
আধুনিক হাউসিং কমপ্লেক্সের মতোই সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে গড়ে তোলা হচ্ছে সাধারণ নিম্ন মধ্যবিত্তের স্বপ্নের বাড়ি। নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারের পাশে অত্যাধুনিক বহু-তল পার্কিং কমপ্লেক্স ‘সুসম্পন্ন’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে, যেখানে মোট আটটি তলা এবং পর্যাপ্ত গাড়ি রাখার জায়গা রয়েছে। এছাড়াও ওই এলাকার মধ্যেই ‘তরুণ্য’ নামের একটি মুক্তমঞ্চ এবং শিশুদের বিনোদন পার্ক তৈরি করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলিকে ঘিরে আশেপাশের এলাকায় মোট পাঁচটি বড় প্রকল্পে প্রায় ৪৫৫.৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে রাজ্য সরকার।

কলকাতায় ভাড়া বাড়িতে কষ্ট করে জীবনযাপন করা নিম্ন আয়ের এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলির জন্য ‘সুজন্ন নিজন্ন হাউসিং প্রজেক্টস’ এক সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে এসেছে। ১লা আগস্ট থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায়, ইচ্ছুক আবেদনকারীদের দেরি না করে এই সুযোগটি লুফে নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।