প্যাকেটে লেখা থাকে, Expiry Date এবং Best Before! এই দুটোর মানে কি এক? জেনেনিন পার্থক্য!

বাজার থেকে আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় যে প্যাকেটজাত দ্রব্যগুলি কিনি, সে ফল-সবজি হোক বা ওষুধ, প্রসাধনী হোক বা অন্য কোনও উপাদান – সব কিছুতেই কিছু নির্দিষ্ট তারিখ লেখা থাকে। ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট (তৈরির তারিখ), প্যাকিং ডেট (মোড়কীকরণের তারিখ) এবং এক্সপায়ারি ডেট (মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ) সাধারণত উল্লেখ করা থাকে। এই তারিখগুলি ক্রেতাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে। কিন্তু এর মধ্যেও দু’টি বিষয় প্রায়শই মানুষকে বিভ্রান্ত করে – ‘এক্সপায়ারি ডেট’ এবং ‘বেস্ট বিফোর’ (সর্বোত্তম ব্যবহার) তারিখ। দুটো কি একই অর্থ বহন করে, নাকি এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে?

সাধারণত, কোনো জিনিসের দাম এবং এক্সপায়ারি ডেট দেখেই ক্রেতারা সেটি কেনার সিদ্ধান্ত নেন। দামের ক্ষেত্রে এমআরপি (Maximum Retail Price) বা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লেখা থাকে, যা বেশিরভাগ দোকানে নির্ধারিত মূল্যের কমও নেওয়া হতে পারে, আবার পরিবহন খরচ দেখিয়ে কোথাও কোথাও কিছুটা বেশিও নেওয়া হয়। তবে মূল প্রশ্নটি থাকে ‘এক্সপায়ারি ডেট’ এবং ‘বেস্ট বিফোর’ নিয়ে, যা প্রায় একই রকমের মনে হলেও এদের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে।

এক্সপায়ারি ডেট (Expiry Date):
এই তারিখটি হলো কোনো পণ্য ব্যবহারের একেবারে শেষ দিন। অর্থাৎ, উল্লিখিত তারিখ পর্যন্ত পণ্যটি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। এই তারিখ পেরিয়ে যাওয়ার পর দ্রব্যটি ব্যবহার করলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক হতে পারে। বিশেষ করে, ওষুধ এবং ডেয়ারি প্রোডাক্ট (যেমন দুধ, দই, পনির) এর ক্ষেত্রে এক্সপায়ারি ডেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তারিখের পর এই ধরনের পণ্য ব্যবহার করলে খাদ্যে বিষক্রিয়া সহ নানা রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বেস্ট বিফোর ডেট (Best Before Date):
‘বেস্ট বিফোর’ তারিখটি মূলত পণ্যের গুণগত মান, স্বাদ, গন্ধ, এবং আকৃতি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করে। এই তারিখটি বোঝায় যে, উল্লিখিত তারিখ পর্যন্ত পণ্যটির গুণগত মান, স্বাদ এবং আকৃতি সর্বোত্তম থাকবে। শুকনো খাবার (যেমন বিস্কুট, চিপস), স্ন্যাকস, চকোলেট এবং প্রসাধনী পণ্যের ক্ষেত্রে এই ধরনের তারিখ হামেশাই দেখা যায়।

‘বেস্ট বিফোর’ তারিখটি পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পণ্যটি খারাপ হয়ে যায় না, তবে এর স্বাদ, গন্ধ বা রঙের পরিবর্তন হতে পারে। অর্থাৎ, এর পুষ্টিগুণ বা তাজা ভাব কমে যেতে পারে। যদিও এই তারিখের পর ব্যবহার করলে তা সরাসরি স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক নাও হতে পারে, তবুও সাধারণত এরপর ব্যবহার না করারই পরামর্শ দেওয়া হয়। ‘বেস্ট বিফোর’ তারিখটি দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো, যে নির্দিষ্ট কারণে পণ্যটি কেনা হয়েছে বা তার গুণগত মান দেখে নেওয়া হয়েছে, তার সম্পূর্ণ সুবিধা এই তারিখ পর্যন্ত নিশ্চিত করা। এরপরও ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে এক্ষেত্রে পণ্যের গুণগত মান কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং না করাই শ্রেয়।

বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ:
এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র তথ্য জানানো। প্যাকেটজাত দ্রব্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো রকম সমস্যা কিংবা দ্বিধা থাকলে অবশ্যই খাদ্য বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। পণ্যের লেবেলে উল্লিখিত সমস্ত তথ্য ভালোভাবে দেখে কেনা এবং ব্যবহার করা উচিত।