দিনহাটায় ডোবা থেকে, ২ দিন আগে নিখোঁজ হওয়া যুবকের লাশ উদ্ধার, চাঞ্চল্য ঘটনায়

মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীর কীর্তন চলছিল বাড়িতে। সেই সন্ধ্যাতেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান ৩২ বছরের যুবক সুমন সূত্রধর। দু’দিনের উৎকণ্ঠার পর আজ দুপুরে দিনহাটা শহর সংলগ্ন পুঁটিমারি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্যাস গোডাউন এলাকার একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার হলো তাঁর নিথর দেহ। আকস্মিক এই মৃত্যু এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে, এবং নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। দিনহাটা থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত সুমন সূত্রধর পুঁটিমারি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্যাস গোডাউন এলাকারই বাসিন্দা। গত বুধবার তাঁর বাড়িতে মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ কীর্তনের আয়োজন করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা যখন ভক্তিরসে মগ্ন, ঠিক তখনই সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান সুমন। এরপর আর তিনি ঘরে ফেরেননি। বুধবার রাতে বহু খোঁজাখুঁজি করেও সুমনের কোনো সন্ধান না মেলায় দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েন পরিজনরা। অবশেষে বৃহস্পতিবার সুমনের দাদা রতন সূত্রধর দিনহাটা থানায় একটি মিসিং ডায়েরি করেন।

পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কা ছিল, বাড়ির কাছেই ওই জলাশয়ে হয়তো কোনোভাবে পড়ে গিয়েছেন সুমন। এই সন্দেহের বশেই তাঁরা দিনহাটা থানায় ডুবুরি নামানোর জন্য আবেদন জানান। কিন্তু শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ডুবুরি না আসায়, ভাইয়ের সন্ধানে আর অপেক্ষা করতে পারেননি দাদা রতন সূত্রধর। নিজেই নেমে পড়েন কচুরিপানায় ভরা ওই জলাশয়ে। পানা সরাতে সরাতেই হঠাৎই তাঁর চোখে পড়ে ভাসমান একটি দেহ – সেটি ছিল তাঁরই নিখোঁজ ভাই সুমনের।

মৃতের কাকিমা ভারতী সূত্রধর জানিয়েছেন, সুমনের নেশা করার প্রবণতা ছিল। তবে রতন সূত্রধর প্রশ্ন তুলেছেন, “সকাল পর্যন্ত ডুবুরি না আসায় অগত্যা নিজেই ভাইকে খুঁজতে জলে নেমে পড়ি। এরপর পানা সরাতেই ভাইয়ের দেহ ভেসে ওঠে। তবে কীভাবে ভাই জলে পড়ল তা বুঝতে পারছি না। এখন পড়ে গিয়েছে না ফেলে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে সকলের মধ্যে।”

এই বক্তব্যই ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। নিছকই নেশার ঘোরে অসাবধানতাবশত জলে পড়ে যাওয়া, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো কারণ – এই প্রশ্নগুলোই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মনে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তই হয়তো এই রহস্যের ওপর থেকে পর্দা সরাবে।