‘মোদি ছাড়া বিজেপি ১৫০-ও পাবে না’, নিশিকান্তের মন্তব্যে উত্তাপ রাজনীতিতে

সাধারণত বিরোধী শিবিরকে আক্রমণ করেই শিরোনামে আসেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। কিন্তু এবার তাঁর নিশানা সরাসরি নিজের দলকেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi) সামনে রেখে ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটে না লড়লে বিজেপি ‘বড় ক্ষতির মুখে পড়বে’ – এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করে দলের অন্দরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং রণকৌশল নিয়ে এক চাপা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

‘মোদিজি না থাকলে আমরা ১৫০ আসনও পাব না’

একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিশিকান্ত দুবে (Nishikant Dubey) বলেন, “মোদিজি না থাকলে আমরা ১৫০ আসনও পাব না। দিল্লিতে আগামী ২০ বছর কোনও জায়গা নেই। আমাদের ভরসা মোদিজি।” তাঁর এই কথায় স্পষ্ট যে, তিনি মনে করেন বিজেপির রাজনৈতিক অস্তিত্ব এবং সাফল্য প্রধানমন্ত্রী মোদির ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তিনি আরও যোগ করেন, অনেক রাজনৈতিক দলই বড় নেতার ব্যক্তিত্বের উপর নির্ভর করে চলে, বিজেপির ক্ষেত্রেও নরেন্দ্র মোদি তেমনই এক ব্যক্তিত্ব।

সঙ্ঘের ‘বয়স সীমা’ এবং মোদির ভবিষ্যৎ

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) সাধারণত ৭৫ বছর বয়সের পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসরের একটি অলিখিত নিয়ম মেনে চলে। কিন্তু নিশিকান্ত দুবে এই নিয়মকে মোদির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী বলে দাবি করেছেন। তাঁর মতে, বিজেপির ভবিষ্যৎ পুরোপুরি মোদির উপরেই নির্ভরশীল। সম্প্রতি সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবতের মন্তব্য ঘিরে যখন মোদির বয়স এবং তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, তখন নিশিকান্তের এই মন্তব্য সেই বিতর্কে যেন নতুন করে ঘি ঢেলেছে। এই মন্তব্য বিজেপির অন্দরে সঙ্ঘের প্রভাব এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে বিভিন্ন মতামতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যোগীর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন

নরেন্দ্র মোদির পর প্রধানমন্ত্রী পদের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে প্রায়শই উঠে আসে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) নাম। নিশিকান্ত দুবে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেছেন, আপাতত দিল্লিতে কারও জন্যই জায়গা নেই। তাঁর এই সরাসরি মন্তব্য বিজেপির অন্দরে পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্ব নিয়ে যে চাপা আলোচনা চলছে, তা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। দলের শীর্ষ স্তরের এই ধরনের মন্তব্য নিঃসন্দেহে দলের কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে এখনই বিজেপির পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে নিশিকান্তের কথাগুলো ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, এই মন্তব্য দলের ভিতরেই নেতৃত্ব নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা এবং মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সামনের দিনগুলিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব নিশিকান্তের এই মন্তব্যের বিষয়ে কী অবস্থান নেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।