“দল আমন্ত্রণ জানায়নি”-দিলীপকে মোদীর সভায় ডাকলই না BJP, সুকান্ত মজুমদার কী বলছেন?

একুশে জুলাইয়ের প্রাক্কালে বিজেপি-র অন্দরে ফের দিলীপ ঘোষের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আজ দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভায় প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের অনুপস্থিতি এই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। যদিও গত কয়েকদিনে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠকের পর দিলীপ ঘোষের ‘কামব্যাক’-এর যে ইঙ্গিত মিলেছিল, তা যেন আজ কিছুটা ফিকে হয়ে গেল।

দিল্লি যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমকে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দল তাঁকে মোদীর সভায় আমন্ত্রণ জানায়নি। তিনি বলেন, “আমাকে পার্টি ডাকেনি। কর্মীরা ডেকেছিলেন, তাই আমি হ্যাঁ করেছিলাম। হয়তো পার্টি চায়ও না আমি যাই। অস্বস্তি হবে। তাই আমি দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় যাচ্ছি না।”

তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত দাবি করেছেন আরেক প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেন, “দিলীপদাকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ডেকেছে, তাই উনি থাকতে পারছেন না। এর মধ্যে কোনও বিতর্কের ব্যাপার নেই। আমাকেও যদি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ডাকত, আমিও থাকতে পারতাম না।”

দুই নেতার এই পরস্পরবিরোধী মন্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিশেষত, যখন দিলীপ ঘোষের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে প্রধানমন্ত্রীর সভার আমন্ত্রণ জানিয়ে বিজেপির দলীয় পোস্টার দেখা যাচ্ছে, তখন তাঁর এই অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

আরও লক্ষণীয় বিষয় হলো, সম্প্রতি শমীক ভট্টাচার্যকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও দিলীপ ঘোষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কয়েকদিন আগে দলের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের দূরত্ব কমাতে শমীক ভট্টাচার্য দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পর দিলীপ ঘোষ অন্য দলে যাওয়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বিজেপিতেই থাকার কথা জানিয়েছিলেন এবং তাঁকে বেশ উদ্যোগী দেখা গিয়েছিল। সেই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর সভাতেও তাঁকে আমন্ত্রণ না জানানোর ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠকের পর দিলীপ ঘোষ এবং বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব কমার যে ছবিটি দেখা গিয়েছিল, তা আবার অস্পষ্ট হয়ে গেল। একুশে জুলাইয়ের আগে দিলীপ ঘোষকে কোন মঞ্চে দেখা যাবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।