ঝাড়গ্রামে ট্রেনের ধাক্কায় ৩ হাতির মৃত্যু! কী ঘটেছিল সেই রাতে? জানুন বিস্তারে

মর্মান্তিক! ঝাড়গ্রামে ট্রেনের ধাক্কায় এক বয়স্ক হাতি ও তার দুটি শাবকসহ মোট তিনটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রাতে খড়গপুরগামী জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় এই ঘটনা ঘটে, যা ফের একবার রেললাইন সংলগ্ন বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। এই ঘটনায় রেল এবং বন দফতরের মধ্যে পুরোনো চাপানউতোর নতুন করে শুরু হয়েছে।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে বনকর্মী ও ‘হুলা পার্টি’র সদস্যরা হাতিগুলিকে নিরাপদে জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা করছিলেন। বন দফতর সূত্রে খবর, রাত ঠিক ১০টা ৫৬ মিনিটে রেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল যে, দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি রেললাইনের ধারে অনেকগুলি হাতি ঘোরাফেরা করছে। তাই সে রাতে ওই রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলিকে গতি কমিয়ে চলার নির্দেশ দিতে অনুরোধ করা হয়েছিল।
তবে, অভিযোগ উঠেছে, বারবিল-হাওড়া জনশতাব্দী এক্সপ্রেস দ্রুত গতিতে চলাচল করছিল। আর সেই দ্রুত গতির ট্রেনটির ধাক্কাতেই এই তিনটি হাতির করুণ মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় বন দফতর রেলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
বাড়ছে হাতির সংখ্যা, বাড়ছে সংঘাত
গত কয়েক মাস ধরেই রেললাইনের ধারে হাতির আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ার খবর রেলের চালক ও গার্ডরা জানাচ্ছিলেন। কিছুদিন আগেই দক্ষিণ-পূর্ব রেলে রেললাইনে হাতির প্রসবের কারণে প্রায় দু’ঘণ্টা ট্রেন দাঁড়িয়েছিল। এই ধরনের ঘটনাগুলোই ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে, হাতি নিয়ে সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে।
বন দফতর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য আরও উদ্বেগের। দক্ষিণবঙ্গের চার জেলা – ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ২০১৭ সালে হাতির সংখ্যা ছিল ১৯৪টি। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৪টি, অর্থাৎ গত আট বছরে হাতির সংখ্যা প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ঝাড়গ্রাম ডিভিশনেই ৪৪টি হাতি রয়েছে। নয়াগ্রাম এবং সাঁকরাইল ব্লকেই ১৪৪টি হাতি কেন্দ্রীভূত, যেখানে প্রায় ১০টির কাছাকাছি পাঁচ বছরের নিচে শাবকও রয়েছে। ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের জঙ্গলে একটি ২০-২৫টি হাতির দলেও ছয়-সাতটি শাবক রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি তিন বছরেরও কম বয়সী। বন দফতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতি বছর প্রায় ১০ শতাংশ হারে হাতির সংখ্যা বাড়ছে।
হাতির সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লোকালয় ও রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় তাদের আনাগোনা বাড়ছে। ফলে মানুষ-হাতির সংঘাত এবং রেললাইনে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা কি রেল ও বন দফতরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকেই তুলে ধরছে? এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার পর বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় নতুন কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।