দাদুর সম্পত্তির বিবাদ! মামাতো ভাইয়ের হাতে খুন হলো দিদি, ব্যাপক চাঞ্চল্য এলাকায়

জমি সংক্রান্ত পুরনো বিবাদের জেরে ফের রক্ত ঝরল মালদায়। বুধবার গভীর রাতে ইংরেজবাজার থানার মহদিপুর পিয়াস বাড়ি গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মামাতো ভাইয়ের ধারালো অস্ত্রের কোপে প্রাণ হারালেন এক গৃহবধূ। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন ওই মহিলা, এবং এরপর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

দাদুর সম্পত্তির বিবাদ, পরিণতি মর্মান্তিক:

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত মহিলার নাম রীতা মন্ডল (৩০)। তার স্বামী রণজিৎ দাস আসানসোলের দুর্গাপুরের বাসিন্দা। প্রায় এক মাস আগে রীতা তার বাবার বাড়ি মহদিপুর পিয়াস বাড়ি গ্রামে এসেছিলেন। জানা গেছে, দাদুর সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে তার মামাতো ভাইদের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে বিবাদ চলছিল। এই বিবাদ এতটাই চরমে পৌঁছেছিল যে, এ নিয়ে আদালতেও মামলা চলছিল।

বুধবার জমিতে বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই পারিবারিক বিবাদ ফের মাথাচাড়া দেয়। অভিযোগ, সেই সময় অভিযুক্ত মামাতো ভাই টিংকু মন্ডল ধারালো অস্ত্র নিয়ে রীতার উপর চড়াও হয়। রীতার গলায় কোপ লাগলে, তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের তৎপরতা, অভিযুক্ত পলাতক:

খবর পেয়ে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত টিংকু মন্ডল পলাতক। পুলিশ তাকে খুঁজে বের করার জন্য অভিযান শুরু করেছে। এই ঘটনা চাউর হতেই গ্রামবাসীদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মারধরের অভিযোগ:

এদিকে, একইদিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থানা এলাকার দারিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব শিবনগরেও মারধরের এক অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আমিন আলী সরদার অভিযোগ করেছেন যে, তার দুই ভাইপো আজিজুল সরদার ও সেলিম সরদার চুরির অভিযোগ এনে তাকে ঘুম থেকে তুলে বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এরপর তাকে বাড়ির পাশেই একটি ইলেকট্রিক পোস্টে দড়ি দিয়ে বেঁধে আবারও নির্মমভাবে মারধর করা হয়।

আমিন আলীর চিৎকার চেঁচামেচিতে স্থানীয় মানুষজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। এই ঘটনায় আমিন আলী ক্যানিং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।