বালেশ্বরে কলেজ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্তে নামলো ওডিশার ক্রাইম ব্রাঞ্চ

ওডিশার বালেশ্বরে এক কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় এবার সিআইডি-ক্রাইম ব্রাঞ্চ তদন্তভার গ্রহণ করেছে। যৌন নির্যাতনের জেরে ওই ছাত্রী গত ১২ই জুলাই কলেজের প্রিন্সিপালের অফিসের বাইরে নিজের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গত মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়, যা রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ওডিশা পুলিশের ডিআইজি (সিআইডি-ক্রাইম ব্রাঞ্চ) বিনয়তোষ মিশ্র জানিয়েছেন, এখন থেকে এই ঘটনার তদন্ত করবেন ডিএসপি ইমনকল্যাণ নায়েক, যিনি মহিলা ও শিশুদের উপর অপরাধ দমন শাখায় কর্মরত। তাকে তদন্তে সাহায্য করবেন ইনস্পেক্টর পাঞ্চালি রাউত।
তদন্তের পরিধি বৃদ্ধি ও নতুন অভিযোগের সম্ভাবনা:
ওডিশা পুলিশের শীর্ষ স্থানীয় এক কর্তা জানিয়েছেন, সিআইডি-র ক্রাইম ব্রাঞ্চ এই ঘটনার তদন্তের পরিধি আরও বাড়াবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (ভারতীয় দণ্ডবিধির নতুন নাম) আরও গুরুতর অভিযোগের ধারা যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, যাঁদেরও ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ভূমিকা ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সেই ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যাঁরা ছাত্রীর অভিযোগ খতিয়ে দেখেছিলেন বলে দাবি করেছেন, অথচ তাঁদের নিরপেক্ষতা নিয়ে ছাত্রীর বাবার অভিযোগ রয়েছে।
আত্মহত্যার প্ররোচনা ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা:
তদন্তের আওতায় থাকবে, কেউ ছাত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছিল কি না। কে বা কারা ছাত্রীকে গায়ে ঢালার পেট্রল ও আগুন লাগানোর সরঞ্জাম জোগাড় করে দিয়েছিল, সে বিষয়েও খোঁজ করা হবে। এছাড়াও, যৌন নির্যাতনের ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ ছাত্রী সম্পর্কে এমন কোনো মন্তব্য করেছিল কি না, যাতে তিনি মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
আগের তদন্তে ত্রুটি এবং পুলিশের ভূমিকা:
পুলিশের ওই কর্তা আরও জানান, ছাত্রীর একাধিক সহপাঠী দাবি করেছেন যে, যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ না করায় তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই খুব অসহায় বোধ করছিলেন। ক্রাইম ব্রাঞ্চ ওই সহপাঠীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে। এমনকি, সহদেবখুণ্ঠা থানার পুলিশের আগের তদন্তেও কোনো ফাঁক ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। কারণ, ছাত্রী থানায় গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন গত ১লা জুলাই। তার ভিত্তিতে কলেজে গিয়ে ছাত্রী ও প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ওই থানার তদন্তকারী এক অফিসার। ওই পুলিশ অফিসারের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
পরিবারের নতুন এফআইআর ও রাজনৈতিক চাপানউতোর:
এ দিকে, মৃত কলেজ ছাত্রীর দাদা ভোগারাই থানায় বুধবার পাঁচজনের বিরুদ্ধে আলাদা একটি এফআইআর দায়ের করেছেন। তাতে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ওই পাঁচজন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বোনের ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার করছেন, যার ফলে তাঁদের পরিবারের মানহানি হয়েছে। তিনি মনে করছেন, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওডিশা বিধানসভার বাইরে নির্যাতিতা ছাত্রীর জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে তুলকালাম হয়েছে এবং পুলিশকে জলকামান ব্যবহার করতে হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা ওডিশায় আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীর নিরাপত্তা এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।