ইউনূসের ভবন পর্যন্ত ‘লং মার্চ’, দেশের বাইরে থাকলেও মাঝরাতে যা বার্তা দিলেন হাসিনা!

বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলায় বুধবার (১৬ই জুলাই, ২০২৫) এবং বৃহস্পতিবার (১৭ই জুলাই, ২০২৫) দিনভর ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও কারফিউ জারির পর পরিস্থিতি থমথমে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ জেলা হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে এই সহিংস ঘটনা ঘটেছে, যা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করছে। বৃহস্পতিবার সাময়িকভাবে উত্তেজনা প্রশমন হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনী টহলদারি চালাচ্ছে।

বাংলাদেশের বাইরে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিজ জেলার এই উত্তাল পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তিনি দেশের খোঁজ রাখছেন এবং এই বিষয়ে বার্তাও দিয়েছেন।

বুধবার মধ্যরাতে শেখ হাসিনা, যাকে ‘মুজিব-কন্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ‘ইউনূস সরকার’কে উৎখাত করার ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যার যা আছে, তাই নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। এই মুহূর্তে মানুষকে প্রতিবাদে সামিল হতে হবে। এই সরকার মানুষের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছে। তাই এদের উৎখাত করেই ছাড়তে হবে।”

তার সংযোজন, “একটা নতুন দল তৈরি হয়েছে এনসিপি। সব জায়গায় যায়। চাঁদাবাজির মাস্টার। গোপালগঞ্জে যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটাল। এত মানুষ মারল। এমনকি, সেনার যে আচরণ সবটাই ধরা পড়েছে।” সর্বোপরি, এদিন তিনি ‘লং মার্চ টু যমুনা’র ডাক দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই যমুনাতেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমস্ত প্রশাসনিক দফতর ও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন রয়েছে। মাস কয়েক আগে যখন নির্বাচনের দাবিতে বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সুর চড়িয়েছিল, সেই সময়ও এই যমুনা ভবনই ঘিরে ধরেছিল তারা। সেই ঘটনার কথা আবারও ফিরে এলো শেখ হাসিনার মন্তব্যে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। গোপালগঞ্জের মতো ঐতিহ্যগতভাবে স্থিতিশীল এলাকায় এই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত বহন করছে।