“ভারতের সঙ্গে ‘ইন্দোনেশিয়া মডেল’ বাণিজ্য….”-বড় ইঙ্গিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের, শুল্ক নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তাঁর দেশ ইন্দোনেশিয়ার মতোই ভারতের সঙ্গেও একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য চুক্তিটির ধরন নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া মডেল কী বলছে?
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, আমেরিকা ইন্দোনেশীয় বাজারে ‘জিরো ট্যারিফ’ বা শূন্য শুল্কে প্রবেশ করেছে। তবে, ইন্দোনেশিয়া থেকে আমেরিকায় পণ্য রপ্তানি করতে গেলে তাদের ১৯ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে, যা পূর্বে ছিল ১০ শতাংশ। অর্থাৎ, ইন্দোনেশীয় পণ্যের উপর আমেরিকা শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভারতের জন্য কী অপেক্ষা করছে?
এমন পরিস্থিতিতে মনে করা হচ্ছে, ট্রাম্প ভারতের সঙ্গেও একই রকম চুক্তি করতে পারেন। যদিও গত এপ্রিলে ভারতের উপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব ছিল, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইঙ্গিত অনুযায়ী, আমেরিকার পক্ষ থেকে ভারতের উপর ১৫-২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে, যা পূর্বের প্রস্তাবিত হারের চেয়ে কিছুটা কম।
ভারত ইতিমধ্যেই কিছু আমেরিকান পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়েছে, যা এই চুক্তিকে আরও সহজ করে তুলতে পারে। বিশেষ করে কৃষি ও দুগ্ধ খাতে এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তবে, ভারত তার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছে যে, তারা দুগ্ধ ও চালের মতো সংবেদনশীল পণ্যকে এই চুক্তির আওতার বাইরে রাখবে।
২৬ শতাংশ শুল্কের খাঁড়া ও ভারতের অবস্থান
উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল ভারত থেকে উৎপাদিত একাধিক পণ্যের উপর আমেরিকা ‘পারস্পরিক চুক্তি’ (Reciprocal Arrangement) অনুযায়ী শুল্ক আরোপ করেছিল, যা পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেন। সেই ৯০ দিনের সময়সীমা ৯ই জুলাই শেষ হয়েছে। বর্তমানে আমেরিকার ১০ শতাংশ বেসলাইন ট্যারিফ কার্যকর রয়েছে। ভারত চাইছে আমেরিকা এই ২৬ শতাংশ পারস্পরিক কর সম্পূর্ণরূপে তুলে নিক। যদি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি বিফল হয়, তবে ফের এই ২৬ শতাংশ শুল্কের খাঁড়া ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এর আগেও জানিয়েছিলেন যে, বাণিজ্য চুক্তি তখনই কার্যকর হবে, যখন তা দুই দেশের জনগণের জন্য লাভজনক হবে। গত ৪ঠা জুলাই তিনি বলেছিলেন, “জনগণের উপর কী প্রভাব পড়ছে সেই ভাবনাই আমাদের কাছে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। সেকথা মাথায় রেখে যদি কোনও চুক্তি হয় তবে ভারত সর্বদাই প্রস্তুত।”
ট্রাম্পের ‘ইন্দোনেশিয়া মডেল’ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই চুক্তি ভারতের জন্য সহজ হবে না, কারণ এতে ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্কের বোঝা বাড়তে পারে। আগামী দিনগুলিতে এই বিষয়ে দুই দেশের আলোচনা কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।