OMG! খাদ্যনালীতে মিললো লোহার তার, বার করে সফল অপারেশন হাসপাতালের

মুড়ির সঙ্গে দু’সেন্টিমিটার লম্বা লোহার তারের টুকরো গিলে ফেলেছিলেন এক মহিলা। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের দক্ষতায় জটিল পদ্ধতির মাধ্যমে সেই তার বের করে মহিলার প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসকদের এই সাফল্য ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
সোমবার গোপীবল্লভপুর–২ ব্লকের চর্চিতা গ্রামের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী সুনীতারানি দে মুড়ি খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত লোহার তারের টুকরোটি গিলে ফেলেন। তারটি তাঁর খাদ্যনালীতে বেশ খানিকটা ঢুকে যায়। দ্রুত পরিবারের লোকজন তাঁকে গোপীবল্লভপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে ওই দিনই তাঁকে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
হাসপাতালে আনার পর মহিলার গলার এক্স-রে করা হয়। এক্স-রে রিপোর্টে দেখা যায়, খাদ্যনালীর নরম অংশে কিছু একটা আটকে রয়েছে। প্রথমে চিকিৎসকরা লোকাল অ্যানেস্থেশিয়া করে মুখগহ্বরের ভিতরের পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করেন, কিন্তু তাতে তারের টুকরোটি বের করা যায়নি।
কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে চিকিৎসকরা মহিলাকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান করে শ্বাসনালীতে একটি নল (এন্ডোট্র্যাকিয়াল টিউব) ঢুকিয়ে দেন। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে সেই জটিল প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সফলভাবে লোহার তারটি বের করে আনা হয়। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর জ্ঞান ফিরিয়ে আনা হয় এবং কিছুক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।
ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি (মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ও ভাইস প্রিন্সিপাল) অনুরূপ পাখিরা এই সাফল্যের বিষয়ে বলেন, “আমাদের ইএনটি বিভাগে পরিকাঠামোগত কিছু ঘাটতি থাকলেও, চিকিৎসক, অ্যানাস্থেসিস্ট এবং নার্সরা অত্যন্ত সফলভাবে একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই মহিলার গলা থেকে লোহার তারের টুকরোটি বের করতে পেরেছেন। ওই মহিলা এখন সুস্থ আছেন এবং তাঁকে ছুটিও দেওয়া হয়েছে।”
চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপ ও দক্ষতার কারণে একটি জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জন্য এক বড় কৃতিত্ব।