ম্যায় হু না…’, ‘দূরত্ব’ ঘুঁচিয়ে পুরোনো মেজাজে দিলীপ, নিশানায় সুকান্ত-শুভেন্দু?

মাস কয়েক আগের রাজনৈতিক দৃশ্যপট যেন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। যখন শমীক ভট্টাচার্য দলের শীর্ষ পদে আসীন হলেন, তখন দিলীপ ঘোষকে দেখা গিয়েছিল এক ভিন্ন ভূমিকায়। অনেকের মতে, সেই ডুগডুগি বাজানোটা আসলে নিজের জন্য নয়, দলের অন্য নেতাদের বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ছিল। আর আজ, সেই দিলীপই যেন ফিরে এসেছেন তাঁর পুরনো মেজাজে। ‘ম্যায় হু না’ – এই কথায় স্পষ্ট যে, তিনি আছেন এবং তাঁর উপস্থিতি নিয়ে কোনো সংশয় নেই।

মঙ্গলবার এই সূত্র ধরেই নাম না করে রাজ্য বিজেপির বর্তমান নেতৃত্ব, বিশেষ করে সুকান্ত মজুমদার এবং শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ শানালেন দিলীপ ঘোষ। এদিন তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমি কারওর সার্টিফিকেট চাইনি। কাউকে ওড়াতেও চাই না। আমার আমলেই এরা আমার কাছে এসেছিলেন। তাদের নিয়ে পার্টি কাজ করে এগিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে দল তা হলে এখন এগোচ্ছে না কেন? সেই উত্তর খুঁজতে হবে।”

দিলীপের এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর ইঙ্গিত স্পষ্ট যে, বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে দলের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যার কারণ তাঁদেরই খুঁজে বের করতে হবে। এরপরই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দিলীপের সংযোজন, “দিলীপ ঘোষ তৈরি রয়েছে। রাস্তায় রয়েছে। কর্মীদের মাঝে রয়েছে। যে কাজ আমায় দেওয়া হয়েছিল, তা আমি করেছি। এখন সুস্থ সবল রয়েছি। দল যে ভাবে ব্যবহার করবে, সে রকম ভাবেই কাজ করব। ম্যায় হু না।”

এই দিলীপ যেন একেবারে পুরনো দিলীপ। সেই চেনা মুখ, যার ধ্যান-জ্ঞান কেবলই দল। মাঝের একটা সময় অনেকেই মনে করেছিলেন, দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। দিল্লিতে গিয়ে ‘চেয়ার না পাওয়া’ নিয়ে তাঁর আক্ষেপের কথাও শোনা গিয়েছিল। তবে, একাংশের মতে, সেই দূরত্ব ঘুচিয়েছেন নবনির্বাচিত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এমনকি, শমীকও নিজে পুরনো এবং অভিজ্ঞ নেতাদের সামনে নিয়ে আসার বার্তা দিয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, দিলীপ ঘোষের এই ফেরা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়, বরং দলের অন্দরে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সুকান্ত-শুভেন্দু জুটির নেতৃত্বাধীন সময়ে দলের একাধিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে দিলীপের এই ‘ম্যায় হু না’ বার্তা নিঃসন্দেহে রাজ্য বিজেপির আগামী দিনের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। তাঁর পুরনো মেজাজে ফিরে আসা এবং বর্তমান নেতৃত্বকে পরোক্ষভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো, রাজ্য বিজেপির অন্দরের সমীকরণকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এল। আগামী দিনে এই দিলীপের ভূমিকা কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।