“১৬০০ কিমি দণ্ডি কেটে কেদারনাথ যাত্রা”-কোলে সন্তান পেয়ে শিব দর্শনের পথে ভক্ত শম্ভু

প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ। ট্রেন, বাস বা হেঁটে নয়, এই গোটা পথই দণ্ডি কেটে পেরোচ্ছেন এক যুবক। অঝোর ধারায় বৃষ্টির মাঝেই সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার মছলন্দপুরে দেখা গেল এমনই এক অভূতপূর্ব দৃশ্য, যা দেখতে ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাদুড়িয়ার বাসিন্দা শম্ভু কাহার নামের এই শিবভক্ত এভাবেই দণ্ডি কেটে কেদারনাথের পথে পাড়ি দিয়েছেন তাঁর এক মানত পূরণের উদ্দেশ্যে।
কেন এই কঠিন মানত?
শম্ভু কাহার একজন শিবভক্ত এবং বিবাহিত। তাঁর স্ত্রীর বেশ কয়েকবার সন্তান এলেও, দুর্ভাগ্যবশত প্রতিবারই গর্ভেই সন্তান নষ্ট হয়ে যেত। এই বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে শম্ভু ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে এক কঠিন মানত করেন—যদি তাঁর সুস্থ সন্তান জন্মায়, তাহলে তিনি দণ্ডি কেটে কেদারনাথ যাবেন। অবশেষে কয়েক বছর আগে তাঁদের এক সুস্থ পুত্র সন্তানের জন্ম হয়, যার বর্তমান বয়স ৩ বছর। নিজের মানত রক্ষা করতেই শম্ভু এবার এই সুদীর্ঘ ও কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন।
কেমন চলছে তাঁর যাত্রা?
কঠিন প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে শম্ভু প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করছেন। রোদ, বৃষ্টি, কাদা – কোনো কিছুই তাঁকে আটকাতে পারছে না। সোমবার মছলন্দপুরের নকপুল এলাকায় তাঁকে দেখা যায়। গা-হাত-পায়ে কাদা মাখা অবস্থায়, কোনো দিকে না তাকিয়ে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গেই দণ্ডি কেটে একটু একটু করে এগিয়ে চলেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা শম্ভুর এই অবিশ্বাস্য যাত্রার কথা শুনে স্তম্ভিত। তাঁকে এক ঝলক দেখার জন্য বৃষ্টি মাথায় করেও অনেকে দাঁড়িয়ে থাকছেন। কেউ তাঁকে দক্ষিণা দিচ্ছেন, কেউ খাওয়ার জন্য ফল এগিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণামও করছেন।
রাতে কোথায় থাকছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে শম্ভু জানান, রাস্তার ধারে কোনো স্থানীয় ক্লাব বা মন্দিরেই তাঁর রাত কাটছে। যাত্রাপথে তিনি শুধুমাত্র ফল ও নিরামিষ খাবার গ্রহণ করছেন। নিজের মানত পূরণে বৃষ্টির মধ্যেই নিরলসভাবে দণ্ডি কেটে তিনি এগিয়ে চলেছেন তাঁর গন্তব্য কেদারনাথের দিকে।