আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে সিজারের সময় মূত্রনালী কেটে ফেলার অভিযোগ, হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা

আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সিজার করার সময় এক প্রসূতির মূত্রনালী কেটে ফেলার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক হইচই শুরু হয়ে যায়। যদিও হাসপাতাল সুপার আশ্বাস দিয়েছেন, আরেকটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মূত্রনালী জোড়া লাগানো হবে।

ঘটনার বিস্তারিত:

সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই কোচবিহারের বাসিন্দা আলপনা বর্মন বিশ্বাস প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভর্তি হন। সেদিনই তার সিজার করা হয়। তবে রবিবার ভোর থেকে আচমকা ওই রোগীর রক্তপাত (ব্লিডিং) শুরু হয় এবং তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা তাকে সিসিইউতে (CCU) স্থানান্তরিত করেন।

সেই সময়ই রোগীর পরিজনেরা জানতে পারেন যে, গর্ভে শিশুর অবস্থান বিপজ্জনক থাকায় সিজারের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে মূত্রনালী কেটে ফেলা হয়েছিল। যদিও রোগীর সদ্যোজাত শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ আছে বলে জানা গেছে।

পরিজনদের ক্ষোভ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশ্বাস:

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রোগীর পরিজনেরা হাসপাতালের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তারা চিকিৎসকদের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন।

হাসপাতাল সুপার অবশ্য দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আরেকটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মূত্রনালী জোড়া লাগিয়ে দেওয়া হবে এবং রোগীর সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারের সময় কীভাবে এমন গুরুতর ভুল হতে পারে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও, রোগীর পরিবার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।