সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরিহারাদের নবান্ন অভিযান, মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক, নতুন করে বিতর্কে নিয়োগ বিধি

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারানোর পর ‘যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’-এর ব্যানারে আজ হাওড়া থেকে ‘নবান্ন অভিযান’ শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা। ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘কলুষিত’ ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট এই নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এর প্রতিবাদে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখালেন এই চাকরিহারারা।

নবান্ন অভিযানে উত্তেজনা ও পুলিশের বাধা:

প্রথম থেকেই নবান্ন অভিযান ঘিরে হাওড়া সংলগ্ন এলাকায় দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। মল্লিক ফটকে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের নিয়ম ভাঙতে নিষেধ করলেও, চাকরিহারারা পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার বচসায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।

মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক:

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর, যোগ্য চাকরিহারীদের একটি প্রতিনিধি দল মুখ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করার ছাড়পত্র পায়। ১৮ জন যোগ্য শিক্ষক এবং ২ জন অশিক্ষক-কর্মী-সহ মোট ২০ জনের এই প্রতিনিধি দল হাওড়ার শিবপুরের পুলিশ লাইনে বৈঠকে বসেন। তাদের মূল দাবি হলো, যোগ্য শিক্ষকদের বাদ দিয়ে বাকিদের জন্য নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে, সুপ্রিম কোর্টে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা জমা দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা।

সুপ্রিম কোর্টের রায় ও আইনি জটিলতা:
২০২৪ সালের এপ্রিলে কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকার-অনুদানপ্রাপ্ত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিতে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীদের সমস্ত নিয়োগ বাতিল ঘোষণা করেছিল। সেই রায়ই বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত আরও নির্দেশ দেয় যে, যারা অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের বেতন ফেরত দিতে হবে। এসএসসি-র মাধ্যমে নবম, দশম, একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক এবং গ্রুপ-সি এবং ডি-এর মাধ্যমে যে সমস্ত নিয়োগে অনিয়ম পাওয়া গেছে, সেগুলিও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ মত দেন যে, পশ্চিমবঙ্গ এসএসসির নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাপক কারচুপি এবং জালিয়াতির উপর ভিত্তি করে হয়েছিল। শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ তাদের রায়ে স্পষ্ট করে জানায়, “আমাদের মতে, এটি এমন একটি ঘটনা যেখানে সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া কলুষিত এবং অপূরণীয়ভাবে কলঙ্কিত। ব্যাপক কারচুপি এবং জালিয়াতি, সাথে প্রচ্ছন্ন করার চেষ্টা, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে মেরামত এবং আংশিক মুক্তির বাইরে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং বৈধতা ক্ষুন্ন হয়েছে।”

এই জটিল পরিস্থিতিতে একদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি এবং অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া রায়, সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এখন দেখার, এই বৈঠকের পর সরকার কী পদক্ষেপ নেয় এবং কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়।