ভাঙড় হত্যাকাণ্ড “রেজ্জাক খান খুনে” TMC কর্মী গ্রেফতারিতে কী বলছেন সুকান্ত মজুমদার?

ভাঙড়ে তৃণমূল নেতা রেজ্জাক খানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়। কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন অন্যতম অভিযুক্ত, তৃণমূল কর্মী মোফাজ্জেল মোল্লা। এই গ্রেফতারির পরই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে।
গ্রেফতারির বিস্তারিত:
গত কয়েকদিন ধরেই রেজ্জাক খানের হত্যাকাণ্ড ঘিরে ভাঙড়ে চাপা উত্তেজনা ছিল। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠছিল। অবশেষে কলকাতা পুলিশের তদন্তে মোফাজ্জেল মোল্লার নাম উঠে আসে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। মোফাজ্জেলকে জেরা করে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, রাজনৈতিক বিবাদ এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
সুকান্ত মজুমদারের বিস্ফোরক অভিযোগ:
মোফাজ্জেল মোল্লার গ্রেফতারির পরই বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি সরাসরি শওকত মোল্লাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ভাঙড়ে যা হচ্ছে, তা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চরম পরিণতি। শওকত মোল্লার নেতৃত্বেই ভাঙড়ে লাগাতার সন্ত্রাস চলছে। রেজ্জাক খানের হত্যা সেই সন্ত্রাসেরই ফল।”
তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার আইন-শৃঙ্খলার উন্নতির কথা বলেন, কিন্তু তার নিজের দলের নেতারাই প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হচ্ছেন। এর দায় কে নেবে? ভাঙড়ে তৃণমূলের এই হিংসার রাজনীতি বন্ধ না হলে আরও রক্ত ঝরবে।” সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন, এই ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া:
সুকান্ত মজুমদারের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তৃণমূল অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করছে এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসূত্র টেনে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা হচ্ছে। তবে এই হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী গ্রেফতারি ভাঙড়ের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা আগামী দিনে আরও উত্তাপ ছড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।