গঙ্গায় তলিয়ে যাওয়া ৪ নাবালকের জীবন বাঁচিয়ে “হিরো” কলকাতা পুলিশের কর্মী

ভাগীরথীর উন্মত্ত স্রোতে তলিয়ে যেতে বসা চার নাবালকের জীবন বাঁচিয়ে নজির গড়লেন কলকাতা পুলিশের এক সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই) মানিক দে। রবিবার দুপুরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র ডকের কাছে এই ঘটনা ঘটে। মানিক দে-র সময়োচিত তৎপরতা এবং সাহসিকতা তাঁকে ওই শিশুদের পরিবারের কাছে ‘রিয়েল হিরো’ বানিয়ে দিয়েছে। তার এই অদম্য সাহসিকতার জন্য কলকাতা পুলিশের পদস্থ আধিকারিকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।

কী ঘটেছিল রবিবার দুপুরে?

জানা গেছে, রবিবার বেলা তিনটে নাগাদ এএসআই মানিক দে-র নেতৃত্বে কলকাতা পুলিশের একটি স্পিডবোট গঙ্গাবক্ষে রুটিন টহল দিচ্ছিল। সেই সময় মানিক দে দেখতে পান, নেতাজি সুভাষচন্দ্র ডকের কাছে ছয়জন নাবালক একটি বড় থার্মোকল আঁকড়ে ধরে তীব্র জলের তোড়ে ভেসে যাচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বুঝে তিনি দেরি না করে স্পিডবোট নিয়ে তাদের পিছু নেন। অন্যান্য পুলিশকর্মীদের সহায়তায় রিভার ট্রাফিক পুলিশের এই এএসআই ওই ছয় নাবালককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

মৃত্যুমুখ থেকে উদ্ধার:

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ছয় শিশু গতকাল মেটিয়াবুরুজ এলাকার একটি ঘাটে স্নান করতে নেমেছিল। গঙ্গায় নামার পরই প্রবল স্রোতে তারা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং ভেসে যেতে শুরু করে। প্রাণের ভয়ে তারা চিৎকার শুরু করলে সেই শব্দ গঙ্গাবক্ষে কর্তব্যরত এএসআই মানিক দে-র কানে আসে। সময় নষ্ট না করে তিনি এবং তার দল দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টার পর পশ্চিম বন্দর থানা এলাকা থেকে ওই নাবালকদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

প্রশংসায় পঞ্চমুখ পুলিশকর্তারা:

কলকাতা পুলিশের ডিসি (বন্দর) হরিকৃষ্ণ পাই এএসআই মানিক দে-র এই কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “এএসআই মানিক দে অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি কলকাতা রিভার ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত। তার এই কাজে আমরা গর্বিত।”

রিভার ট্রাফিক পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা:

লালবাজারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কলকাতা রিভার ট্রাফিক পুলিশ সারাদিন ধরে গঙ্গাবক্ষে টহলদারি চালায়। এই টহলদারির মাধ্যমে বহু মানুষকে তলিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচান কর্তব্যরত আধিকারিকরা। রবিবার এএসআই মানিক দে-র এই ঘটনা তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই ঘটনার পর গঙ্গাবক্ষে টহলদারির পরিমাণ আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মানিক দে-র এই অদম্য সাহস এবং মানবিকতা আবারও প্রমাণ করল যে, পুলিশ কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, বিপদের মুহূর্তে তারা মানুষের আসল বন্ধু।