শনিবারের দুপুরে থমকে গেল মেট্রো! আত্মহত্যার চেষ্টায় নিহত যাত্রী, সুরক্ষা নিয়ে ফের প্রশ্ন

সপ্তাহান্তের দুপুরে ফের ব্যাহত হলো কলকাতা মেট্রো পরিষেবা। শনিবার বেলা ১২টা নাগাদ শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় এক অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় ঘটল, যখন দক্ষিণেশ্বর থেকে কবি সুভাষগামী মেট্রো চলাচলে ছন্দপতন হলো। দুপুর ঠিক ১২টা নাগাদ সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনে এক ব্যক্তি চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে, যার ফলে কলকাতাবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যবস্থায় নেমে আসে ভোগান্তির কালো মেঘ।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় কলকাতা মেট্রো রেলের কবি সুভাষ অভিমুখী পরিষেবা সম্পূর্ণরূপে স্থগিত রাখা হয়। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট স্টেশনে ছুটে আসে রেল পুলিশ ও মেট্রো আধিকারিকরা। তড়িঘড়ি করে মেট্রোর লাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে শুরু হয় উদ্ধারকার্য। প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীটি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। তাঁর পরিচয় এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।

যাত্রী দুর্ভোগ চরমে: অফিস ও স্কুল ফেরত যাত্রীদের নাভিশ্বাস
এই ঘটনার পর মেট্রোর দক্ষিণগামী পরিষেবা সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়। গিরিশ পার্ক স্টেশনে ট্রেন দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে পড়ে এবং যাত্রীদের ট্রেন খালি করে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। ফলে আচমকাই বিপাকে পড়েন বহু অফিসগামী যাত্রী, ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ যাত্রীরা। স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন, উত্তেজনা, এবং অসন্তোষ দেখা যায়।

মেট্রোর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, “এই দুর্ঘটনার কারণে মেট্রোর দক্ষিণগামী রুট বন্ধ রাখা হয়েছে। যতক্ষণ না উদ্ধার কাজ সম্পূর্ণ হচ্ছে ও ট্র্যাক পরিষ্কার হচ্ছে, পরিষেবা চালু সম্ভব নয়। আপাতত গিরিশ পার্ক পর্যন্ত ট্রেন চলবে। যাত্রীদের কাছে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।” দুপুর ২টো নাগাদ পরিষেবা আংশিক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, পুরোপুরি পরিষেবা কখন চালু হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন: ‘প্ল্যাটফর্মে বাউন্ডারি দেওয়ালের ব্যবস্থা হোক’
মেট্রো পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল বহু মানুষের জন্য এই আকস্মিক ধাক্কা বড় রকমের সমস্যা তৈরি করে। অফিস টাইমে পরিষেবা বন্ধ থাকায় অনেকেই বিকল্প পরিবহনের খোঁজে রাস্তায় নেমে পড়েন। সেইসঙ্গে এসপ্ল্যানেড, গিরিশ পার্ক, মহাত্মা গান্ধী রোড, চাঁদনি চকের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়।

অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মেট্রো ছাড়া আমরা ভাবতেই পারি না। তবে এমন আত্মহত্যার ঘটনাগুলি নিয়মিতই ঘটছে। এর জন্য আরও কড়া নিরাপত্তা দরকার।” কেউ কেউ পরামর্শ দেন, প্ল্যাটফর্মে বাউন্ডারি দেওয়ালের ব্যবস্থা করা হোক যাতে কেউ লাইনে ঝাঁপাতে না পারেন।

এদিনের এই আত্মঘাতী ঘটনার ফলে ফের প্রশ্ন উঠেছে, মেট্রো স্টেশনগুলিতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট কি না। কলকাতা মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, শহরের ‘লাইফলাইন’ মেট্রোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা কতটা জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *