ছিনতাইয়ের আড়ালে পরকীয়া! ‘সবটাই নাটক’ সাজানো প্ল্যান, রহস্য উন্মোচনে চমকে উঠল পুলিশও

দিল্লির বুকে এক সাধারণ ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা এবার যে নাটকের জন্ম দিল, তাতে চমকে উঠেছে খোদ পুলিশও। স্কুটিতে চড়ে দু’জন এসে এক ব্যক্তির ফোন ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তদন্তে নামতেই বেরিয়ে এল এক অবিশ্বাস্য মোড় – ছিনতাইয়ের নেপথ্যে ছিলেন খোদ অভিযোগকারীর ‘গুণধর’ স্ত্রী! পরকীয়ার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি লুকাতে সাজানো হয়েছিল এক নিখুঁত পরিকল্পনা।
ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯ জুন দিল্লির পুরনো ইউকে পেন্ট ফ্যাক্টরির কাছে। ভুক্তভোগী ব্যক্তি দক্ষিণ দিল্লি থানায় তাঁর ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ যথারীতি তদন্ত শুরু করে, কিন্তু যা উন্মোচিত হলো, তা যেন কোনও থ্রিলার সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।
৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে ফাঁস হলো ছক
দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ওই এলাকার প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখা শুরু করে। এখানেই প্রথম সূত্র মেলে। ফুটেজে দেখা যায়, নীল রঙের টিশার্ট পরা এক ব্যক্তি স্কুটিতে করে এসে ফোনটি ছিনিয়ে নিচ্ছে। বসন্তকুঞ্জের স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট রেকগনিশন (ANPR) ক্যামেরার সাহায্যে স্কুটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর খুঁজে বের করা হয়। জানা যায়, সেটি দরিয়াগঞ্জ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।
স্কুটি ভাড়া নেওয়ার সময় অভিযুক্ত তার আধার কার্ড এবং মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেছিল – আর এটাই কাল হলো। ওই সূত্র ধরে পুলিশ রাজস্থানের বারমের জেলা থেকে দুই অভিযুক্তের মধ্যে একজন, অঙ্কিত গেহলতকে গ্রেফতার করে। অঙ্কিতকে জেরা করতেই পুলিশের সামনে খুলে যায় এই সাজানো ছিনতাইয়ের পুরো চিত্র।
অন্তরঙ্গ ছবি মুছে ফেলার মরিয়া চেষ্টা: প্রেমিকের সাহায্য চেয়েছিলেন স্ত্রী
জিজ্ঞাসাবাদের চাপে অঙ্কিত স্বীকার করে, ভুক্তভোগীর স্ত্রীর অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। সেই প্রেমিকের সঙ্গে তার কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি স্বামীর ফোনে ছিল। এই তথ্য যাতে স্বামীর মাধ্যমে ফাঁস না হয়ে পড়ে, সেজন্য ওই মহিলা ফোনটি ছিনতাই করানোর নাটক সাজান। অঙ্কিত আরও জানায় যে, ওই মহিলাই তার স্বামীর রোজের রুটিন, অফিস যাওয়া-আসার সময় সহ সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য তাকে দিয়েছিলেন।
বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ভুক্তভোগী স্বামী জানতেন যে তার স্ত্রী অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। তাই স্ত্রী যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, সেই সুযোগে তিনি সমস্ত ছবি নিজের ফোনে ট্রান্সফার করে নেন। স্ত্রী যখন এই বিষয়টি বুঝতে পারেন, তখন ভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। যদি সমস্ত ঘটনা পরিবারের সকলের সামনে চলে আসে, এই আশঙ্কায় তিনি ফোনটিই গায়েব করে দেওয়ার ছক কষেন।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ছিনতাই হওয়া ফোনটি উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় অঙ্কিত গেহলত এবং ভুক্তভোগীর স্ত্রী – দুজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনা ফের প্রমাণ করল যে, কখনও কখনও অপরাধের নেপথ্যে লুকিয়ে থাকে অপ্রত্যাশিত পারিবারিক জটিলতা, যা প্রকাশ্যে আসে এক ভিন্ন রূপে।