গালওয়ানের পর চিন সফরে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর, কূটনৈতিক সমাধানের আশায় ভারত!

ভারত-পাক উত্তেজনার মধ্যেই এবার বেইজিংয়ের দিকে নজর বিশ্ব কূটনীতির। গালওয়ান সংঘর্ষের প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আগামী ১৪ ও ১৫ জুলাই চীন সফরে যাচ্ছেন। এই উচ্চপর্যায়ের সফরকে দেখা হচ্ছে ভারত-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে, যেখানে সীমান্ত বিবাদ থেকে শুরু করে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা গেছে, জয়শঙ্কর তাঁর চীনা সমকক্ষ ওয়াং ই-এর সঙ্গে বেইজিংয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। এরপর তিনি তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর বিদেশমন্ত্রীদের কাউন্সিলে যোগ দেবেন। গত মাসে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর চীন সফরের পর জয়শঙ্করের এই সফর দুই দেশের মধ্যে আস্থা ফেরানোর এবং বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টার অংশ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
রুদ্ধদ্বার বৈঠক: সম্পর্কের বরফ গলাবে কি?
সম্মেলনের বাইরে দুই মন্ত্রীর এই পৃথক বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বৈঠক দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে টানাপোড়েনযুক্ত সম্পর্ক মেরামতের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভারত ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত বিবাদ সহ বেশ কিছু বিষয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে এই উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা উভয় পক্ষকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে।
সূত্রের খবর, এই বৈঠকে বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ভারতের জন্য বিরল মৃত্তিকা (rare earth) সরবরাহ, যা আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং দলাই লামার উত্তরসূরি নির্ধারণের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলিও উঠে আসতে পারে। এছাড়া, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনে চীনের সম্ভাব্য ভূমিকা এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করার মতো বিষয়গুলিও আলোচ্যসূচিতে থাকতে পারে।
SCO মঞ্চে কূটনীতির নতুন অধ্যায়?
চীন-নেতৃত্বাধীন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) একটি বহুমুখী গোষ্ঠী, যেখানে ভারত ও পাকিস্তান সহ মোট নয়টি স্থায়ী সদস্য দেশ রয়েছে। এই মঞ্চে জয়শঙ্কর এবং ওয়াং ই-এর সাক্ষাৎ কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। কূটনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ছে যে, এই আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষই পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়িয়ে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে পারে।
গত মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সফল চীন সফর এবং জুলাই মাসেই চীনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-এর ভারত সফরে আসার খবর – এই সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, উভয় দেশই বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সদিচ্ছা দেখাচ্ছে। শুভাংশু শুক্লার মহাকাশ থেকে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষার মধ্যেই, বেইজিংয়ের এই কূটনৈতিক সফর ভারতের আঞ্চলিক নীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।