‘রূপনারায়ণের’ নাম বলে বাজারে বিক্রি ভুয়ো ইলিশ, প্রতিদিন ঠকছেন অগণিত ক্রেতা!

ইলিশ মানেই আবেগ, আর রূপনারায়ণের ইলিশ মানেই গর্ব। সেই রুপালি মাছের স্বাদ আর ঘ্রাণে জিভে জল এনে যায় বাঙালির। কিন্তু ইদানীং বাগনান ও কোলাঘাটের বাজারে ‘রূপনারায়ণের ইলিশ’ নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও প্রতারণার অভিযোগ। ইলিশপ্রেমীদের আনন্দ এখন অনেকাংশেই সন্দেহে পরিণত হয়েছে।

এক সময় রূপনারায়ণ নদীতে বর্ষাকাল মানেই ছিল ইলিশের ছড়াছড়ি। মাছ ধরতে ভোর হতেই নদীতে নামতেন জেলেরা। কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলে গিয়েছে। দূষণ, অতিমাত্রায় মাছ ধরা আর জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে রূপনারায়ণে ইলিশের সংখ্যা ভয়ানকভাবে কমে গিয়েছে।

ইলিশের চাহিদা কমেনি একটুও। বরং “রূপনারায়ণের ইলিশ” নামটিকে ঘিরে ব্যবসায়িক লাভের সম্ভাবনা আরও বেড়েছে। আর এই সুযোগেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ এমনকি বাংলাদেশের পদ্মা নদী থেকে ইলিশ এনে ‘রূপনারায়ণের ইলিশ’ বলে বাজারে বিক্রি করছেন।

এই বাক্যে ভরসা রেখেই প্রতিদিন ঠকছেন অগণিত ক্রেতা। রঙ, আকার কিংবা মৌসুমি আবহের ছাপ দেখে সাধারণ মানুষ বুঝতেও পারছেন না আসল-নকলের ফারাক। এমনকি ১৫০০-২০০০ টাকা কেজি দাম দিয়েও স্বাদে, গন্ধে সেই চেনা রূপনারায়ণের ছোঁয়া মিলছে না।

বিভিন্ন স্থানীয় নাগরিক সংগঠন ও মৎস্য সমিতি এখন বাজারে ইলিশের উৎস নির্দিষ্টভাবে জানানোর দাবি তুলেছে। প্রশাসনের তৎপরতা চেয়ে তাঁরা বলছেন, ‘রূপনারায়ণ’ নাম ভাঙিয়ে কেউ যেন ভুয়ো ইলিশ বিক্রি করতে না পারে।

মৎস্য দফতরের এক আধিকারিক বলেন,“আমরা অভিযোগ খতিয়ে দেখছি। অন্য নদীর মাছ রূপনারায়ণের নামে বিক্রি হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”