কেন ভেঙে পড়ল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান? আজই প্রকাশ্যে আসতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট

গত ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI-171 বিমান দুর্ঘটনায় প্রায় ২৭০ জনের মৃত্যু— আর মাত্র ৩২ সেকেন্ডের মাথায় আকাশ থেকে ভেঙে পড়ে মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলের উপর। এই ভয়াবহ ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট শুক্রবার (১১ জুলাই) প্রকাশ হতে পারে, এমনটাই জানিয়েছে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত তিনটি সূত্র। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা? তদন্তে উঠে আসছে কোন তথ্য?
এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) জানিয়েছে, রিপোর্ট তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। সূত্রের দাবি, তদন্তে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিমানের ‘ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ’ সংক্রান্ত ত্রুটির দিকে। এই সুইচগুলিই দুটি ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

যদিও যান্ত্রিক ত্রুটির স্পষ্ট কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। ঠিক কীভাবে এই ফুয়েল সুইচ দুর্ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, বা কোনও মানবিক ভুল ছিল কিনা, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

ব্ল্যাক বক্সে কী মিলেছে?
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার করা হয় বিমানের দুটি ব্ল্যাক বক্স—

১৩ জুন উদ্ধার হয় প্রথমটি

১৬ জুন পাওয়া যায় দ্বিতীয়টি

এই দুই ব্ল্যাক বক্সেই রয়েছে উড়ান সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য এবং ককপিটের কথোপকথনের রেকর্ড। সেগুলির বিশ্লেষণই এখন তদন্তের মূল ভিত্তি।

বিমানে থাকা ২৪১ জন যাত্রী ও ক্রু ছাড়াও হস্টেলের ভিতরে থাকা আরও বহু মানুষ প্রাণ হারান। একমাত্র একজন যাত্রী এই দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে যান। নিহতদের মধ্যে ছিলেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিও।

আহমেদাবাদ হাসপাতালের চিকিৎসকরা মৃতদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনার সাহায্য নিয়েছেন। শনাক্ত হওয়ার পর দেহ তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারের হাতে।

এই দুর্ঘটনা শুধু ভারতের নয়, গত এক দশকে বিশ্বজুড়েই সবচেয়ে প্রাণঘাতী অসামরিক বিমান বিপর্যয়ের একটি। আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। যদিও ভারত এই সময়সীমা কিছুটা নমনীয়ভাবে প্রয়োগ করে।