OMG! ঠাকুরের ছবির পিছনে লুকিয়ে গাজা পাচার, রামপুরহাটে গ্রেপ্তার ৩! পুলিশের জালে ফিল্মি ছক

ঠিক যেন রুপোলি পর্দার গল্প! ঠাকুরের ছবির পেছনে লুকিয়ে পাচার হচ্ছিল গাঁজা। আর সেই চতুর কায়দায় পাচারের ছক ভেঙে দিল বীরভূম জেলা পুলিশ। রামপুরহাটে ধরা পড়ল তিন দুষ্কৃতী। তাঁদের মধ্যে দু’জন স্থানীয় এবং একজন বহিরাগত বলে জানিয়েছে পুলিশ। অনুমান, এই গাঁজা পাচার হচ্ছিল ভিনরাজ্যে, বিশেষত ঝাড়খণ্ডের দিকে।

পুলিশ সূত্রে খবর, বহরমপুর থেকে সিউড়ি হয়ে ঝাড়খণ্ডগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে করেই তিন পাচারকারী আসছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রামপুরহাট থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাস থামিয়ে দেয়। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় গাঁজা ভর্তি ব্যাগ— তবে তা কোনও সাধারণ ব্যাগ নয়! ঠাকুরের ছবির পেছনে বিশেষ কৌশলে লুকোনো ছিল নিষিদ্ধ মাদক।

পুলিশের অনুমান, ধর্মীয় আবহ এবং সাধু-সন্তের ভিড়কে কাজে লাগিয়ে গাঁজার ‘ডিমান্ড’ বাড়াতে এই কৌশল নিয়েছিল পাচারকারীরা।

ঝাড়খণ্ডের দেওঘরে শ্রাবণী মেলা শুরু হতে চলেছে কয়েকদিনের মধ্যেই। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী এবং সাধু এই মেলায় অংশ নেন। পুলিশের ধারণা, তাঁদের অনেকেই গাঁজা সেবন করেন বলেই এই সময় মাদকের চাহিদা বেড়ে যায়। সেই লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছিল এই চোরাচালানের পরিকল্পনা।

রামপুরহাট থানার পুলিশ তিন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। গাঁজার নির্দিষ্ট পরিমাণ এখনও প্রকাশ না করলেও, পুলিশ জানিয়েছে তা “উল্লেখযোগ্য পরিমাণে”।

বীরভূমের পুলিশ সুপার আমনদীপ বলেন,“বহরমপুর থেকে ঝাড়খণ্ডগামী রুটে আমাদের নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে। পাচারকারীদের কাছ থেকে অনেক গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। তদন্ত চলছে।”

এই ঘটনার আগে নলহাটি থানা এলাকার একটি ঝাড়খণ্ডগামী বাস থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ২২.৫ কেজি গাঁজা। সে ঘটনায় ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা নিয়াজ শেখকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এবার রামপুরহাটে নতুন করে একই ধরনের কৌশল ফের সামনে এল।

পুলিশ ইতিমধ্যেই পাচারকারীদের জেরা করে পাচারচক্রের পেছনে থাকা মূল মাথাদের সন্ধান পেতে চেষ্টা শুরু করেছে।

ঠাকুরের ছবির আবরণে মাদক পাচার— ঘটনা যেমন ফিল্মি, তেমনই ভয়ংকর। উৎসবের সময় ধর্মীয় আবহকে ব্যবহার করে বেআইনি কারবার চালানোর চেষ্টা রুখতে বীরভূম পুলিশ এখন আরও সতর্ক। তদন্তের অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে গোটা জেলা।