মুম্বইয়ের নামী স্কুলে নারকীয় ঘটনা, ছাত্রকে শিক্ষিকার যৌন নির্যাতন, কাঠগড়ায় পকসো আইনে গ্রেফতার বিবাহিত শিক্ষিকা

মুম্বইয়ের দাদরের এক নামী স্কুলে এক ছাত্রকে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দীর্ঘকালীন যৌন নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ১৬ বছর বয়সী দশম শ্রেণির ওই ছাত্রকে গত প্রায় এক বছর ধরে এক ৪০ বছর বয়সী শিক্ষিকা জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কে লিপ্ত করিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই ভয়াবহ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং তাঁকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। গোটা মায়ানগরীতে এই ঘটনা রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত এবং নৃশংসতার বিবরণ:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই নির্যাতনের সূত্রপাত ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানের সময়। সেখানেই শিক্ষিকার নজর পড়ে ওই ছাত্রের ওপর। এরপর থেকে নানা অছিলায় তাকে কাছে ডাকা এবং শারীরিক স্পর্শের মাধ্যমে শুরু হয় হেনস্থা। অভিযোগের মূল অংশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ওই শিক্ষিকা গাড়ি করে ছাত্রটিকে মুম্বই বিমানবন্দরের পাশে একটি পাঁচতারা হোটেলে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে যৌন নির্যাতন করেন। এরপর থেকে বারংবার জোরপূর্বক যৌন লালসার শিকার হতে হয় দশম শ্রেণির এই পড়ুয়াকে।
স্কুল পরিবর্তন করেও নিস্তার মেলেনি:
নির্যাতনের শিকার হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছাত্রটি নিজেকে সকলের থেকে দূরে সরিয়ে নিতে শুরু করে। সে বারবার শিক্ষিকার কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও, ওই শিক্ষিকা অন্য শিক্ষক বা সহপাঠীদের দিয়ে ফোন করিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। ধীরে ধীরে ছাত্রটি ঘরের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে নেয় এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা বন্ধ করে দেয়। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, ভয় দেখিয়ে বাড়ি থেকে জোর করে নিয়ে গিয়ে ওই শিক্ষিকা ছাত্রটিকে মদ্যপানও করিয়েছেন এবং মানসিক চাপ কমানোর জন্য ট্যাবলেটও দিয়েছেন।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, দশম শ্রেণির পর ছাত্রটি স্কুল পরিবর্তন করলেও শিক্ষিকা তার পিছু ছাড়েননি এবং তাকে হয়রানি চালিয়ে যান।
পরিবারের নীরবতা ও অবশেষে অভিযোগ:
ছেলের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে বাবা-মায়ের সন্দেহ হয়। বারবার জিজ্ঞাসাবাদের পর একদিন ছেলে তার মাকে সব কথা খুলে বলে। প্রথমে সম্মানহানির ভয়ে বাবা-মা বিষয়টি চেপে যান। তারা ভেবেছিলেন, দশম শ্রেণির পর ছেলে স্কুল বদলালে শিক্ষিকা হয়তো পিছু নেওয়া বন্ধ করবেন। কিন্তু তেমনটা হয়নি। শিক্ষিকা যখন স্কুল ছাড়ার পরও ছাত্রকে হয়রানি করতে থাকেন, তখন হতাশ হয়ে বাবা-মা দাদর থানায় ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
আইনি পদক্ষেপ ও বিচার বিভাগীয় হেফাজত:
পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পকসো আইনের ৪, ৬ এবং ১৭ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেছে। জানা গেছে, ওই শিক্ষিকা বিবাহিত এবং তাঁর একটি সন্তানও রয়েছে।
বুধবার শিক্ষিকার আইনজীবীরা আদালতে একটি আবেদন জমা দেন এবং তাঁদের মক্কেলের মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁরা দাবি করেন, পুলিশি হেফাজতে থাকলে শিক্ষিকার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। এরপর বৃহস্পতিবার মুম্বই সেশন কোর্ট অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বর্তমানে ৪০ বছর বয়সী এই শিক্ষিকাকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়মিত চিকিৎসা করানো হচ্ছে।
দাদরের মতো একটি নামী স্কুলে এমন ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টি আবারও বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।