ছেলেকে মজার ছলে ‘বৌ’ সাজিয়েছিলেন মা! তারপরেই শেষ গোটা পরিবার, সুইসাইড নোটে যা লেখা ছিল?

সন্ধ্যায় যখন ঘরে মায়ের সঙ্গে দুই ছেলের খুনসুটি চলছিল, একজন মজার ছলে সেজে উঠেছিল মেয়ের বেশে— মাথায় ঘোমটা, কপালে টিপ, গলায় হার। এই দৃশ্য দেখে পরিবারের সবাই হেসে লুটোপুটি খাচ্ছিলেন, আট বছরের নাবালকও বেজায় মজায় ছিল। কিন্তু এই আনন্দ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক মর্মান্তিক পরিণতি নিয়ে এলো। রাজস্থানের বারমেরে এক ৩৫ বছর বয়সী যুবক, তার স্ত্রী এবং দুই নাবালক সন্তানসহ চার সদস্য একসঙ্গে একটি জলের ট্যাঙ্কে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। বুধবার সকালে তাদের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

কীভাবে ঘটলো এই মর্মান্তিক ঘটনা?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে এই ঘটনাটি ঘটে। পরিবারের সদস্যরা মঙ্গলবার রাত থেকেই ওই চারজনের খোঁজ পাচ্ছিলেন না। অবশেষে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ রাতে তল্লাশি চালিয়ে জলের ট্যাঙ্ক থেকে দেহগুলি উদ্ধার করে। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

সুইসাইড নোটে উঠে এলো কারণ:
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। সেই নোটে ৩৫ বছর বয়সী ওই যুবক জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই জমি সংক্রান্ত বিষয়ে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় একটি আলাদা বাড়ি করে, পরিবার নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার মা ও দাদার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এমনকী তিনি পৈতৃক সম্পত্তি থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। এই পারিবারিক অশান্তি এবং বঞ্চনাই তাদের চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে বলে সুইসাইড নোটে লেখা আছে। চিঠিতে তারা আরও লিখেছেন, তাদের দেহ যেন বাড়ির সামনেই দাহ করা হয়।

এই ঘটনায় বারমের জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনাটি ঘিরে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে, পারিবারিক বিবাদের গভীরতা এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা সংক্রান্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে। এই মর্মান্তিক আত্মহননের ঘটনা আবারও পারিবারিক কলহ এবং সম্পত্তির বিবাদ যে কতদূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে, তার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।