‘দিদিই থাকছেন, জনতা রায় দিয়ে দিয়েছে’! ফলপ্রকাশের আগে মমতাকে নিয়ে কেন এমন দাবি করলেন অখিলেশ?

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ লড়াই শেষ। এখন সবার নজর ৪ মে-র ফলপ্রকাশের দিকে। কিন্তু ভোট গণনার কাঁটা ঘোরার আগেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। বাংলায় কে সরকার গড়বে, তা নিয়ে কার্যত একতরফা ভবিষ্যদ্বাণী করে বসলেন তিনি। অখিলেশের দাবি, বাংলার মানুষ ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে ২৩৪টি আসনে এগিয়ে দিয়েছে।
অখিলেশের আত্মবিশ্বাসী বার্তা নির্বাচন পরবর্তী এক আলাপচারিতায় অখিলেশ যাদব বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে জানান, বাংলার মাটি বরাবরই সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তাঁর মতে, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। অখিলেশ বলেন, “বাংলার জনতা আগেই মনস্থির করে নিয়েছিল। মমতা দিদির উন্নয়ন এবং তাঁর লড়াইকে সম্মান জানিয়ে মানুষ ২৩৪টি আসনে তৃণমূলকে জয়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।” বিরোধীদের যাবতীয় জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানান, রাইটার্স বিল্ডিংস বা নবান্নে ‘দিদি’-র আধিপত্য অটুট থাকছে।
বিজেপিকে কড়া টক্কর ভোট প্রচারের শুরু থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির সুসম্পর্ক নজর কেড়েছে। মমতার হয়ে প্রচার করতেও দেখা গিয়েছে অখিলেশকে। ফলপ্রকাশের ঠিক আগে তাঁর এই মন্তব্য যে বিজেপি শিবিরের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করার কৌশল, তেমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। অখিলেশের কথায়, বিজেপি যত বেশি মেরুকরণের চেষ্টা করেছে, বাংলার মানুষ তত বেশি করে তৃণমূলের ওপর আস্থা রেখেছে।
বাংলার ভাগ্য নির্ধারণের অপেক্ষা রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনে ভোট সম্পন্ন হয়েছে (একটি আসনে ভোট স্থগিত)। ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ হলেও, অখিলেশ যে সংখ্যাটি উল্লেখ করেছেন তা গত নির্বাচনের (২০২১) ২১৫টি আসনের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যাবে। এখন দেখার, ৪ মে ইভিএম খোলার পর অখিলেশ যাদবের এই ‘বড় দাবি’ বাস্তবের মুখ দেখে নাকি বাংলার মসনদে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হয়।
গোটা দেশের নজর এখন বাংলার ফলের দিকে। অখিলেশের এই ভবিষ্যদ্বাণী কি শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হবে? উত্তর দেবে সময়।