বেআইনি ভর্তি, অবৈধভাবে টাকা তোলা, প্রিন্সিপালকে হেনস্থা! কসবা কাণ্ডে অভিযুক্তের যত কান্ড

দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কে জড়িয়ে থাকা কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের প্রধান অভিযুক্তের অতীত রীতিমতো দাগি ইতিহাসের মতো। কলেজে পড়াশোনার সময় থেকেই তাঁর দাদাগিরি, গুণ্ডামি, ক্ষমতার অপব্যবহার চলত অব্যাহতভাবে। এমনকী কলেজের তৎকালীন প্রিন্সিপাল দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়কেও তিনি একাধিকবার অপমান ও হেনস্থা করেছেন বলে অভিযোগ।

প্রাক্তন হওয়া সত্ত্বেও কলেজ চত্বরে তাঁর প্রভাব, কর্তৃত্ব এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষমেশ ২০১৮ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে চার বছরের জন্য বহিষ্কার করে। সেই সময় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, শুধুমাত্র পরীক্ষার দিনেই কলেজে প্রবেশের অনুমতি থাকবে তাঁর।

প্রিন্সিপাল দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী নবনীতা চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “ছাত্র থাকাকালীনই নানা অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়েছিল সে। প্রিন্সিপালকে হেনস্থা করা, রাতভর ঘেরাও, বেআইনি রেজিস্ট্রেশন, কলেজের টাকা হাতানোর চেষ্টায় লিপ্ত ছিল। এমনকি একাধিকবার থানায় অভিযোগ করতে হয়েছিল।”

তিনি আরও জানান, “কলেজে বেআইনিভাবে ভর্তি করানোর জন্য চাপ, অনুষ্ঠান-সুবিধার অজুহাতে টাকার জোগান চাওয়া— সব মিলিয়ে একটা ভয়ঙ্কর পরিবেশ তৈরি করেছিল। আমার স্বামী পুলিশের সাহায্যে ওর দৌরাত্ম্য কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলেন। কিন্তু যদি তখনই কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হত, তাহলে হয়তো আজকের ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হত না।”

২০২২ সালে বহিষ্কারের মেয়াদ শেষ হলে ফের কলেজে পা রাখে অভিযুক্ত। ২০২৩ সাল থেকে আবারও পুরনো চেহারায় ফিরতে দেখা যায় তাকে। ফের ‘কলেজের দাদা’ হয়ে ওঠে সে। অভিযোগ ওঠে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি, সহপাঠীদের মারধর সহ একাধিক অপরাধমূলক কার্যকলাপের।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে— এত অভিযোগ, এত বিতর্ক সত্ত্বেও কীভাবে আবারও এতটা ক্ষমতাবান হয়ে উঠল অভিযুক্ত? কে বা কারা ছিল তার পেছনে? কীভাবে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা সত্ত্বেও থামানো গেল না এই বাড়বাড়ন্ত?