কসবা আইন কলেজ ধর্ষণ কাণ্ডে এ কী বলছেন তৃণমূল সাংসদ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে বিতর্ক!

কসবা আইন কলেজে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “যদি বন্ধু বন্ধুকে রে*প করে, তাহলে এক্ষেত্রে নিরাপত্তার গাফিলতি কোথায়?”
তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে এবং জনসমক্ষে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সাংসদ প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা কি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুলিশ মোতায়েন করতে চান? পুলিশের পক্ষে কি প্রতিটি কোনায় থাকা সম্ভব?” তিনি আরও বলেন যে, সমাজে কিছু বিকৃত মানসিকতার লোক এই ধরনের অপরাধ করে। তাঁর মতে, পুরুষদের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে আইন বা পুলিশ দিয়ে এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব নয়।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যাদের সঙ্গে মেয়েরা মেলামেশা করছে, তাদের নিজেদেরও বুঝতে হবে যে তারা কাদের সঙ্গে মিশছে।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের নোংরা মানসিকতার পুরুষদের বিরুদ্ধে নারীদেরও রুখে দাঁড়ানো উচিত।
এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপি সহ বিরোধী দলগুলি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য একজন নির্যাতিতাকে দোষারোপ করার (victim-shaming) শামিল এবং এটি ধর্ষকদের পক্ষেই যাচ্ছে। বিজেপির মুখপাত্র এই মন্তব্যকে “লজ্জাজনক” ও “অসংবেদনশীল” বলে অভিহিত করেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি সহপাঠীর দ্বারা ধর্ষণ গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে সরকারের কাজটা কী?”
যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব দ্রুততার সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে এবং অভিযুক্তের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে। তবে, সাংসদের এই মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক ক্রমশই বাড়ছে।