ফের ‘সুটকেস হত্যাকাণ্ড’ উদ্ধার দেহ, রায়পুরে প্রেমঘটিত খুনে চাঞ্চল্য! দিল্লিতে গ্রেপ্তার যুগল

মিরাটের ভয়াবহ সুটকেস হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিকে আবারও তাজা করে তুলল ছত্তিশগড়ের রায়পুর। শহরের ইন্দ্রপ্রস্থ কলোনি এলাকার এক জঙ্গলঘেরা ফাঁকা জমি থেকে সিমেন্টে মোড়া অবস্থায় এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, যা গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দিল্লি থেকে এক যুগলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দুর্গন্ধে সূত্রপাত, রহস্যময় টিনের বাক্স:
পুলিশ সূত্রে খবর, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে ওই ফাঁকা জমি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পেয়ে সন্দেহ করেন। তাঁদের খবর পেয়ে রায়পুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ একটি বড় টিনের বাক্স দেখতে পায়, যা শিকল দিয়ে তালাবন্ধ ছিল। ওই বাক্সের ভিতরেই ছিল আরও একটি সুটকেস, যা এই রহস্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
যখন পুলিশ সুটকেসটি খুলে দেখে, তখন সিমেন্টে মোড়া অবস্থায় এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মৃতদেহের গলা কাটা ছিল এবং হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল, যা অপরাধের নৃশংসতা প্রমাণ করে।
মৃতের পরিচয় ও প্রেমঘটিত খুনের অনুমান:
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ঘটনাটি দু-তিন দিন আগের। মৃত ব্যক্তির নাম কিশোর পাইকরা, বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। রায়পুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দৌলত রাম জানিয়েছেন, “প্রাথমিক তদন্তে আমরা এটিকে প্রেমঘটিত কারণে সংঘটিত খুন বলে মনে করছি।”
পুলিশের ধারণা, দুর্গন্ধ ছড়ানো আটকাতে মৃতদেহটি প্রথমে সিমেন্টে মোড়া হয় এবং তারপর সুটকেসের ভিতর রেখে আরও একবার সিমেন্টে ঢেকে দেওয়া হয়, যা অপরাধীদের ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা প্রকাশ করে।
সিসিটিভি-র সূত্র ধরে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার:
তদন্তে নেমে পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। ফুটেজে দেখা যায়, এক পুরুষ এবং এক মহিলা ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো একটি পুরনো গাড়িতে করে ওই টিনের বাক্সটি ঘটনাস্থলে ফেলে দিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর পুলিশ গোলবাজারের পেটলাইন এলাকার একটি দোকান থেকে ওই টিনের ট্রাঙ্কটি কেনার সূত্র পায়। দোকানদার জানান, সোমবার সকালে এক যুবক-যুবতী এসে ট্রাঙ্কটি কিনেছিলেন এবং তাদের আচরণ যথেষ্ট সন্দেহজনক ছিল।
সিসিটিভি ফুটেজ থেকে গাড়ির বিবরণ এবং সন্দেহভাজনদের চেহারা চিহ্নিত করে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। শেষ পর্যন্ত দিল্লি থেকে অভিযুক্ত যুগল অঙ্কিত উপাধ্যায় এবং শিবানি শর্মাকে গ্রেফতার করা হয়।
জেরায় সম্পর্কের টানাপোড়েন, তদন্তের গভীরে পুলিশ:
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের রায়পুরে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জেরায় ধৃতরা সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, অপরাধের পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরিকল্পনা করেই সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল এবং মৃতদেহ লুকানোর জন্য ট্রাঙ্ক ও সুটকেস ব্যবহার করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর ইন্দ্রপ্রস্থ কলোনি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, দ্রুত চার্জশিট জমা দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে, যেখানে নেটিজেনরা মিরাটের সুটকেস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এর তুলনা করছেন। রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সিসিটিভি নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য আরও জোরদার করা হবে।”