“মৃত প্রায় ৬০০, নিখোঁজ ২৫০০”-জেনেনিন নেপালের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে

ভয়াবহ সঙ্কটের মুখে প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল। অবিরাম হড়পা বানে মৃত এবং নিখোঁজের সংখ্যা হু হু করে বেড়েই চলেছে। এখনও পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৬০০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং প্রায় ২,৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যেই নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, কারণ কোশি নদী এলাকায় ফের কাদা মেশানো জলের স্তর বিপজ্জনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে।

ক্রমশ বাড়ছে মৃত্যুর গ্রাফ নেপাল পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫৭৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। রাসুয়া সহ মধ্য নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে। একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার ফলেই মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। রেড ক্রসের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সর্বগ্রাসী বন্যায় ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে কোশি ও ত্রিশূলী এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি, যেখানে নতুন করে জলের স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসন ফের সতর্কতা জারি করেছে।

নিখোঁজ ৩২০ ভারতীয় নেপালের সঙ্গে ভারতের গভীর যোগাযোগের কারণে সেখানে সবসময়ই বহু ভারতীয়র যাতায়াত থাকে। এই বিপর্যয়ের জেরে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, হড়পা বানের কবলে পড়ে ৩২০ জন ভারতীয় এবং ১০০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, তিব্বতের দিকে আটকে থাকা প্রায় ৪০০ জন ভারতীয় নিরাপদে রয়েছেন এবং তিব্বত সীমান্ত দিয়ে ৯৬ জন ভারতীয় সুরক্ষিতভাবে নেপালে প্রবেশ করতে পেরেছেন।

বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা, সাহায্যের হাত বাড়াল ভারত উদ্ধারকার্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভেঙে পড়া পরিকাঠামো। ভয়াবহ বন্যায় তিন ডজনেরও বেশি সেতু বা ব্রিজ সম্পূর্ণ ভেসে যাওয়ায় বহু পাহাড়ি এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে ভারত ও চিনের কাছে ৪২টি বেইলি ব্রিজ তৈরির জন্য বিশেষ সাহায্য চেয়েছে নেপাল সরকার। দ্রুত নির্মাণযোগ্য এবং কম ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় বলে এই সেতুগুলি এই মুহূর্তে অত্যন্ত উপযোগী। প্রতিবেশী দেশের এই কঠিন সময়ে ইতিমধ্যেই দুই দফায় জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *