ছাব্বিশের নির্বাচনের আগেই নতুন দল আনছেন? অবশেষে আসল সত্যি জানিয়ে দিলেন দিলীপ ঘোষ

দীর্ঘদিন ধরেই দলের অভ্যন্তরে কোণঠাসা অবস্থানে ছিলেন দিলীপ ঘোষ। রাজ্য বিজেপির একাধিক শীর্ষনেতার প্রকাশ্য সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। দলীয় কর্মসূচিতে তাঁর অনুপস্থিতি ও দূরত্ব ঘিরে নানা জল্পনা চলছিল। তবে নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণ ও সংবাদমাধ্যমে মন্তব্যে তিনি নিজের অবস্থান জানান দিয়ে গিয়েছেন।
এই প্রেক্ষিতেই সোমবার দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুখোমুখি দেখা হয়ে যায় দিলীপ ঘোষের। যদিও সেটিকে নিছক সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
সাম্প্রতিক কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে নাবালিকা মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ খুলেছিলেন দিলীপ। ওই প্রসঙ্গেই সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন—“নতুন দল করছেন কি?”
দিলীপ ঘোষ জবাব দেন,“আমি নতুন দল গঠন করছি না। বরং আমরা একটা দল দাঁড় করিয়েছি। ৭০ বছরের লড়াইয়ে বিজেপিকে তৈরি করেছি। বাংলার উন্নয়নের জন্য নতুন কোনও দলের প্রয়োজন নেই। বিজেপিই যথেষ্ট।”তাঁর কথায় স্পষ্ট, বিজেপিতেই নিজের অবস্থান বজায় রাখছেন এবং ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক পথে হাঁটার ইচ্ছা তাঁর নেই।
নদিয়ার কালীগঞ্জে নাবালিকা মৃত্যুর ঘটনাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। বলেন,“বাংলায় ভোট মানেই মৃত্যু, রক্তপাত। পঞ্চায়েত থেকে পার্লামেন্ট—নমিনেশন থেকে গণনা, যেকোনও মুহূর্তে হিংসা হতে পারে। কালীগঞ্জে এক শিশুকন্যার মৃত্যু তৃণমূলের গুন্ডারাজের বহিঃপ্রকাশ।”তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশও ‘নির্বাচিত’ অর্থাৎ সব ঘটনায় সমান মনোভাব নেই।
তবে দিলীপের কটাক্ষের জবাবে পাল্টা আক্রমণ করেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়,“দিলীপ ঘোষ এখন নিজের দলের মধ্যেই একঘরে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর প্রতি ভরসা হারিয়েছে। তাই নিজের পুরনো অবস্থানে ফিরতেই তিনি এসব বক্তব্য রাখছেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষ আপাতত বিজেপির মূল সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চান। তবে তাঁর অবস্থান যে এখনও প্রশ্নের মুখে, তা তাঁর প্রতিটি বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট।