বোমাবাজির ঘটনায় নাবালিকার মৃত্যু ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি, DYFI নেত্রী মীনাক্ষীকে কটাক্ষ কুণালের

নদিয়ার কালীগঞ্জে ভোটের ফল ঘোষণার পরপরই ভয়াবহ বোমাবাজির ঘটনায় এক নাবালিকার মৃত্যু নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ঘটনায় এখন পর্যন্ত তৃণমূল ঘনিষ্ঠ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন DYFI নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সোমবার তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন,“এটা কোনও রাজনৈতিক উল্লাস নয়, এটা স্পষ্ট গুন্ডারাজ। এবং সেই গুন্ডামিতে সরকারি মদত রয়েছে। বাংলার প্রশাসন আজ চুপ।”
তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ যদিও সরাসরি নাম করে মীনাক্ষীকে কটাক্ষ করেন।“মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় জানেন কি, ওনার এক জ্যেঠুর নাম একসময় রবিন দেব থেকে রিগিং দেব হয়ে গিয়েছিল?”এই মন্তব্যে তাঁর লক্ষ্য বামফ্রন্ট আমলে নির্বাচনী অনিয়মের প্রসঙ্গ টেনে আনা।
সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে কুণাল বলেন,“সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস— কার জমানা রক্তে রঞ্জিত ছিল, তা আমরা জানি। বালিগঞ্জ উপনির্বাচনে মৃতদেহ পড়েছিল গুলিতে— সেটা ভুলে গেলে চলবে না।”
তিনি আরও জানান,“কালীগঞ্জের ঘটনায় যদি সত্যিই কেউ তৃণমূলের বিজয় মিছিলে থেকে এমন অশান্তি ছড়ায়, তার শাস্তি হোক। আবার যদি কেউ ইচ্ছাকৃত অন্তর্ঘাত করে বিজয়কে কলঙ্কিত করতে চায়, সেটারও তদন্ত হোক।”
কুণাল ঘোষ আরও বলেন,“অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তৃণমূল কংগ্রেসই প্রথম প্রতিবাদ করে। আর তৃণমূল পরিচালিত প্রশাসনই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়। ইতিমধ্যেই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।”
রবিবার রাতেই নদিয়ার কালীগঞ্জে বিজয় মিছিল চলাকালীন ছোড়া হয় বোমা, যার একটির আঘাতে মৃত্যু হয় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তামান্না খাতুনের। অভিযোগ, টার্গেট ছিল সিপিএম-ঘনিষ্ঠ একটি পরিবার, কিন্তু সে সময় বাইরে খেলতে থাকা তামান্নার গায়ে বোমা এসে পড়ে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।
তামান্নার মৃত্যু নিয়ে শোক ও ক্ষোভের মাঝেই দলগত কাদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত রাজনৈতিক মহল। একপক্ষ বলছে প্রশাসনের ব্যর্থতা, অন্যপক্ষ বলছে বিরোধীদের চাল।
তবে প্রশ্ন একটাই— এক শিশুর মৃত্যু কি আর শুধুই রাজনৈতিক পরিসংখ্যানে রয়ে যাবে? নাকি মিলবে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি? জনমানসে আজ সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।