কালীগঞ্জে বোমার আঘাতে নাবালিকার মৃত্যু, চার অভিযুক্ত গ্রেফতার পুলিশের হাতে

নদিয়ার কালীগঞ্জের পলাশির মুলানদী গ্রামে বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়েছে এক নাবালিকার। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ইতিমধ্যেই কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশ চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হল— আদর শেখ, মানোয়ার শেখ, কালু শেখ এবং আনওয়ার শেখ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার, কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর। জয় উদ্‌যাপনে মেতে ওঠে একদল উচ্ছ্বসিত মানুষ। সেই সময় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন বহু স্থানীয় বাসিন্দা। আচমকা বোমা ছোঁড়া হয়। বিস্ফোরণের ফলে গুরুতর জখম হয় স্কুলছাত্রী তামান্না খাতুন ও আরও একজন। তাঁদের কালীগঞ্জ প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে, চিকিৎসকরা তামান্নাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তামান্না কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল না, সে ছিল নিছকই এক সাধারণ ছাত্রী। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক হিংসার বলি হতে হল তাঁকে।

সিপিএম দাবি করে, নিহত নাবালিকার পরিবার তাদের সমর্থক। অন্যদিকে, বিজেপি সরাসরি তৃণমূলের দিকে আঙুল তোলে, হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে। রাজনৈতিক তরজা চরমে ওঠে গ্রামে।

ঘটনার জেরে সোমবার বিকেলেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন এবং জানান, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরে রাতে বৃহৎ পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় এলাকায়। সেখান থেকেই চার অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃতদের আদালতে পেশ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং আরও কেউ এই ঘটনায় জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে একটি অফিসিয়াল পোস্টে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে— আইনি পথে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ফের একবার প্রশ্ন উঠছে— নির্বাচনের পরে কি হিংসাই বাংলার ভবিতব্য হয়ে উঠছে? আর কত তামান্না রাজনৈতিক শত্রুতার বলি হবে? প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ— দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা।