‘ওরা রোজ বাড়িতে আসত’ ছয় বছরের শিশুর ওপর গণধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের জালে ৩

দেশের রাজধানী দিল্লির উপকণ্ঠে অবস্থিত নয়ডার সেক্টর ২১-এ এক মর্মান্তিক ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা দেশ। মাত্র ছয় বছরের এক প্রথম শ্রেণির ছাত্রীর উপর এক মাসের মধ্যে তিনবার পৃথকভাবে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই পাশবিক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খুদেটির শারীরিক অসুস্থতার সূত্র ধরেই মঙ্গলবার এই ভয়াবহ অপরাধের কথা প্রকাশ্যে আসে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই শিশু তার বাবা, এক দাদা এবং এক বোনের সঙ্গে সেক্টর ২১-এর কোয়ার্টারে থাকত, যেখানে তার বাবা কর্মরত। বাবা-মা আলাদা থাকায়, বাবার সঙ্গেই ছিল শিশুটি। অভিযোগ, বাবারই তিন পরিচিত বন্ধু, যারা প্রায় নিয়মিত ওই কোয়ার্টারে যাতায়াত করত, তারাই এই ঘৃণ্য অপরাধ ঘটিয়েছে।
চিকিৎসকের পরীক্ষা: প্রকাশ্যে এল ভয়াবহ সত্য
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন শিশুটি অসুস্থ বোধ করায় তার বাবা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসকের প্রাথমিক পরীক্ষা পরই বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক সত্য। চিকিৎসক জানান, শিশুটির উপর একাধিকবার শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এই খবরে বাবা যেন আকাশ থেকে পড়েন। দ্রুত খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
পুলিশ তদন্ত শুরু করার পর, বিশেষজ্ঞ কাউন্সেলরদের সাহায্যে শিশুটির সঙ্গে কথা বলা হয়। ভয়াবহ অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও, শিশুটি সাহস করে জানায় যে, তার বাবার তিন বন্ধু, যারা তাদের বাড়ির কাছাকাছি কাজ করত, গত এক মাসের মধ্যে তিনটি আলাদা আলাদা দিনে তাকে ধর্ষণ করেছে। শিশুটির জবানবন্দি শোনার পর স্তম্ভিত হয়ে যান তদন্তকারীরা।
গ্রেফতার ৩: পেশায় ইস্ত্রিওয়ালা, নিরাপত্তারক্ষী ও গাড়িচালক
এই জঘন্য অপরাধের দায়ে যে তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের পরিচয়ও প্রকাশ পেয়েছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সেক্টর ২১ এলাকায় বসবাস করত এবং ওই পরিবারে তাদের নিয়মিত আনাগোনা ছিল।
প্রথম অভিযুক্ত ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, যিনি ১২৩ নম্বর সেক্টরে জামাকাপড় ইস্ত্রির কাজ করেন।
দ্বিতীয় জন ৪৮ নম্বর সেক্টরের ৫০ বছর বয়সী এক নিরাপত্তারক্ষী।
তৃতীয় জন ৫৫ বছর বয়সী এক গাড়িচালক।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের জেরা করে আরও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনা আবারও সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। নিজেদের পরিচিত গণ্ডির মধ্যেও যে শিশুরা সুরক্ষিত নয়, নয়ডার এই ঘটনা তার এক ভয়ঙ্কর উদাহরণ। প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক স্তরেও শিশুদের সুরক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে।