এই বছর কবে পালিত হবে যোগিনী একাদশী উপবাস? জেনেনিন এই তিথির বিশেষ রীতিনীতি

এই বছর ২১শে জুন পালিত হবে যোগিনী একাদশী উপবাস। এই দিনটি একদিকে যেমন বছরের দীর্ঘতম দিন, তেমনই জ্যোতিষশাস্ত্র মতে এই উপবাস পালন করলে গ্রহদোষ কেটে যায় এবং ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ লাভ হয়।

একাদশী উপবাস মূলত ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে নিবেদিত। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, যারা নিষ্ঠা সহকারে ভগবান বিষ্ণুর উপাসনা করেন, তাদের জীবনে দেবগুরু বৃহস্পতির কৃপা বর্ষিত হয়। যদি কোনও ব্যক্তির জন্মকুণ্ডলীতে বৃহস্পতি শক্তিশালী থাকে, তবে তিনি কর্মক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করেন, সন্তানের সুখ পান, অর্থের অভাব হয় না, বৈবাহিক জীবন সুখের হয় এবং বিবাহে কোনও বাধা আসে না।

যোগিনী একাদশীর বিশেষ বিধি ও ফল:

অশ্বত্থ রোপণ: যোগিনী একাদশীতে অশ্বত্থ গাছ লাগানো অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, এটি কাজের বাধা দূর করে এবং ধন-সম্পদ লাভ করায়।
ভগবদগীতা পাঠ: সম্ভব হলে, এই দিনে ভগবদগীতার ১১তম অধ্যায় পাঠ করা উচিত।
শ্রী হরি স্মরণ ও গজেন্দ্র মোক্ষ পাঠ: যোগিনী একাদশীতে উপবাস করে সকাল-সন্ধ্যায় শ্রী হরিকে স্মরণ করা উচিত। জ্যোতিষী অনীশ ব্যাসের মতে, এই দিনে ‘গজেন্দ্র মোক্ষ’ পাঠ করলে পূর্বপুরুষদের সন্তুষ্টি হয় এবং ব্যক্তির সমস্ত পাপ ধুয়ে যায়। পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদে বংশ বৃদ্ধি পায়।
শালিগ্রাম ও তুলসী পূজা: যদি আপনার বাড়িতে শালিগ্রাম থাকে, তবে যোগিনী একাদশীতে তুলসী এবং শালিগ্রাম একসঙ্গে পূজা করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এর ফলে বিবাহিত জীবনে চলমান সমস্যার অবসান হয়।
তুলসীর কাছে প্রদীপ প্রজ্বলন: প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, যোগিনী একাদশীতে সূর্যাস্তের পর তুলসী গাছের কাছে ঘি-এর প্রদীপ জ্বালানো উচিত এবং তার চারপাশে পরিক্রমা করা উচিত। এটি যেকোনো বিশেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিকার বলে মনে করা হয়।
এবছর বছরের দীর্ঘতম দিনে এই পবিত্র যোগিনী একাদশী পালনের মাধ্যমে ভক্তরা আধ্যাত্মিক শান্তি এবং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুভ ফল লাভের আশা করছেন।