স্নান করতে গিয়ে ঝামেলা! সামান্য বিবাদ কেড়ে নিল কিশোরের প্রাণ, ভয়াবহ ঘটনা

সোমবার দিল্লির মজনু কা টিলা এলাকার জুভেনাইল কারেকশন হোমে ১৭ বছর বয়সী করণ নামের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, যা সংশোধনাগারের নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। স্নান করা নিয়ে সহপাঠীদের সাথে একটি সামান্য বচসা যে এমন ভয়াবহ পরিণতি ঘটাতে পারে, তা কল্পনাতীত।
ঘটনার সূত্রপাত হয় স্নানঘরে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্নানের ব্যবস্থা নিয়ে দুই নাবালকের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন তৃতীয় এক নাবালক তাদের শান্ত করার উদ্দেশ্যে হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু উদ্দেশ্য ছিল সুদূরপ্রসারী, ফল হলো বিধ্বংসী। শান্ত করার বদলে, সেই তৃতীয় নাবালকটি হঠাৎই হিংস্র হয়ে ওঠে এবং করণের উপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা শিউরে ওঠা বর্ণনা দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, করণকে বারবার এলোপাথাড়ি ঘুষি ও লাথি মারা হয়, যতক্ষণ না সে নিথর হয়ে লুটিয়ে পড়ে। জুভেনাইল হোমের কর্মীরা তড়িঘড়ি তাকে নিকটবর্তী হিন্দু রাও হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই হৃদয়বিদারক খবর সিভিল লাইনস পুলিশ স্টেশনে পৌঁছানোর পর পরই কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ মৃতদেহটি নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য হিন্দু রাও হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ইতিমধ্যেই একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন সংশোধনাগারের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করছেন। তাদের লক্ষ্য, ঘটনার সঠিক সময়ক্রম পুনর্গঠন করা এবং সেই ক্ষুদ্র বিরোধের মূল কারণ চিহ্নিত করা, যা শেষ পর্যন্ত একটি তরতাজা প্রাণ কেড়ে নিল। কর্তৃপক্ষ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে, যা মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে সহায়ক হবে।
এই ঘটনা শুধু একটি কিশোরের মৃত্যু নয়, এটি সংশোধনাগারের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে বসবাসকারী নাবালকদের মানসিক অবস্থা, তাদের মধ্যেকার সম্পর্ক এবং সামগ্রিক তত্ত্বাবধানের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।