“সকালেও কথা হয়েছিল, সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন!” নেপাল বিপর্যয়ে নিখোঁজ বাংলার যুবক

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বান এবং জলের তোড়ে সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনার পর থেকেই চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বাঁকুড়ার ইন্দপুর থানার মধুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা অশোক পালের পরিবার। যে এলাকায় সেতু ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে, ঠিক সেই এলাকারই একটি পাওয়ার প্রজেক্টে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক ও আতঙ্কের ছায়া।

শেষ কথা হয়েছিল বুধবার সকালে

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অশোক পাল কাজের সুবাদে নেপালে থাকতেন এবং ছুটি পেলেই বর্ধমানের লাকুড্ডিতে তাঁর বোনের বাড়িতে উঠতেন। গত প্রায় দশ বছর ধরে নেপালের ওই পাওয়ার প্রজেক্টেই যুক্ত ছিলেন তিনি। অশোকের বোন কবিতা দাস জানিয়েছেন, গত বুধবার সকাল ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁর দাদার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। কিন্তু এর ঠিক পরপরই ঘটে যায় ভয়ঙ্কর বিপর্যয়। তারপর থেকে আর কোনোভাবেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পরিবারের দাবি, সংবাদমাধ্যমে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সেতু ভেঙে পড়ার যে সমস্ত ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে, ঠিক সেই এলাকাতেই কাজ করতেন অশোক। শুধু তাই নয়, ওই পাওয়ার প্রজেক্টে কর্মরত প্রায় ৪০ জন কর্মীর সঙ্গেই দুর্ঘটনার পর থেকে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না স্বজনরা।

পরিবারের একমাত্র ভরসা ছিলেন অশোক

অশোক পালের স্ত্রী তাঁদের দু’বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে বর্তমানে বীরভূমের মল্লারপুরে বাপের বাড়িতে রয়েছেন। গোটা পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন অশোকই। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত বছর ভাইফোঁটার সময় বাড়ি থেকে নেপালে ফিরেছিলেন তিনি। এ বছরের দুর্গাপুজোয় তাঁর সপরিবারে বর্ধমানে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু পুজো আসার আগেই নেপালের এই মহাপ্রলয় সব ওলোটপালট করে দিল। প্রিয় মানুষটিকে ফিরে পাওয়ার আশায় এখন শুধুই চোখের জল ফেলছেন পরিবারের অসহায় সদস্যরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *