দুর্নীতির দায়ে হারিয়েছেন ক্ষমতা, গোতাবায়া শ্রীলঙ্কায় ফিরছেন আগামীকাল

দেউলিয়া হয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে আগামীকাল শনিবার থাইল্যান্ড থেকে নিজ দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একজন শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

গত জুলাইয়ে ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শ্রীলঙ্কা থেকে পালিয়ে প্রথমে মালদ্বীপে, পরে সিঙ্গাপুর এবং শেষে থাইল্যান্ডে যান ৭৩ বছর বয়সী গোতাবায়া রাজাপক্ষে। এর আগে শ্রীলঙ্কার নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের জন্য গোতাবায়াকে দায়ী করে বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েক মাস ধরে রাস্তায় প্রতিবাদ করেছিল এবং একসময় গোতাবায়ার সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করেছিল। তখন গোতাবায়া সামরিক পাহারায় শ্রীলঙ্কা থেকে পালিয়ে যান।

ব্যাংককে যাওয়ার আগে সিঙ্গাপুর থেকে তিনি ই-মেইলে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে ইস্তফা চেয়ে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, ‘তিনি কার্যত একজন বন্দীর মতো থাইল্যান্ডের একটি হোটেলে বসবাস করছেন। তিনি দেশে ফিরতে আগ্রহী। আমাদের বলা হয়েছে, তিনি শনিবার সকালের দিকে শ্রীলঙ্কায় ফিরতে পারেন।’

গোতাবায়ার নিরাপত্তার জন্য একটি নিরাপত্তা বিভাগ গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘শনিবার ফিরে আসার পর তাঁর নিরাপত্তার জন্য আমরা ইতিমধ্যে একটি নতুন নিরাপত্তা ইউনিট গঠন করেছি। ইউনিটটিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্য রয়েছেন।’

শ্রীলঙ্কার সংবিধানে সাবেক প্রেসিডেন্টদের জন্য দেহরক্ষী, একটি গাড়ি ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

সিঙ্গাপুর গোতাবায়াকে ২৮ দিনের ‘ভিজিট ভিসা’ দিয়েছিল। তারপর আর ভিসার মেয়াদ না বাড়ানোয় থাইল্যান্ডে যান গোতাবায়া। কিন্তু ব্যাংকক নিরাপত্তার স্বার্থে গোতাবায়াকে হোটেল থেকে বের হতে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, থাইল্যান্ডে থাকার জন্য ৯০ দিনের ভিসা ছিল গোতাবায়ার। কিন্তু তিনি তাঁর স্ত্রী, দেহরক্ষী ও অন্য দুই সহকর্মীকে নিয়ে দেশে ফিরতেই আগ্রহী।

রাজাপক্ষের ছোট ভাই এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপক্ষে গত মাসে প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং গোতাবায়ার প্রত্যাবর্তনের অনুমতি ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *