স্কুল পালিয়ে আড্ডা মারার দিন শেষ! ছেলে-মেয়ে স্কুলে ঢুকল কি না এবার বাড়িতে বসেই জানবে বাবা-মা

স্কুল পালিয়ে আড্ডা মারার দিন এবার সত্যি সত্যিই শেষ! পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দশগ্রাম সতীশচন্দ্র সর্বাথসাধক শিক্ষা সদন (দশগ্রাম হাইস্কুল) চালু করেছে এক অত্যাধুনিক ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম, যার ফলে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা সম্ভব হবে। এখন থেকে স্কুলে প্রবেশ করার সময় ছাত্রদের মুখ দেখা গেলেই কেবল উপস্থিতির রেকর্ড হবে, অন্য কোনো উপায়ে আর হাজিরা দেওয়া যাবে না।

এই নতুন ব্যবস্থায় ছাত্র বা ছাত্রী স্কুলে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে তাদের অভিভাবকদের মোবাইলে একটি মেসেজ পৌঁছে যাবে। সন্তান স্কুলে ঢুকেছে, এই খবর মুহূর্তেই পেয়ে যাবেন অভিভাবকরা। একইভাবে, স্কুল থেকে বেরোনোর সময়ও এই তথ্য অভিভাবকের মোবাইলে পৌঁছে যাবে, নিশ্চিত করবে যে ছাত্র বা ছাত্রী নিরাপদে স্কুল থেকে বেরিয়েছে।

স্কুল সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই এই আধুনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতদিন যারা মাঝেমধ্যে স্কুল ফাঁকি দিত, এবার তাদের ক্ষেত্রে রাশ টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এই নতুন ব্যবস্থায় খুশি অভিভাবকরাও। অনেকেই বলছেন, এখন তারা বাড়িতে বসেই জানতে পারছেন, তাদের সন্তান ঠিকমতো স্কুলে গেল কি না, যা তাদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমিয়েছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক যুগল প্রধান জানান, প্রায়শই অভিভাবকরা অভিযোগ করতেন যে তাদের সন্তানের স্কুলের উপস্থিতির হার কম হচ্ছে, অথচ তারা প্রতিদিনই স্কুল আসছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্যই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করাই স্কুল কর্তৃপক্ষের মূল উদ্দেশ্য।

এই ব্যতিক্রমী এবং কার্যকরী উদ্যোগ জেলার অন্যান্য স্কুলগুলিও অনুসরণ করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। দশগ্রাম হাইস্কুলের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ছাত্রছাত্রীদের শৃঙ্খলায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।