NIOS থেকে D.EL.ED -ধারীরাও ২০২২-এর প্রাথমিক নিয়োগে অংশ নিতে পারবেন, জানালো হাইকোর্ট

প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা গচ্চা দিয়েও আংশিক স্বস্তি, আর এইদিকে দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় ভোগা বহু চাকরিপ্রার্থীর মুখে ফুটলো হাসি। কলকাতা হাইকোর্টের এক যুগান্তকারী রায়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুলিং (NIOS) থেকে ডিএলএড সম্পন্ন করা শত শত প্রার্থী ২০২২ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই নির্দেশ জারি করেছেন, যা অসংখ্য ডিএলএডধারীর জন্য এক বড় জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না পেরে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন NIOS থেকে ডিএলএড পাশ করা কয়েকশো চাকরিপ্রার্থী। তাঁরা শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি নির্দেশ অনুযায়ী, এই চাকরিপ্রার্থীরাও নিয়োগে অংশ নিতে পারবেন বলে জানানো হয়েছিল।

তবে, গত ৩০ মে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ নথি যাচাইয়ের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টে যাঁরা মামলা করেছিলেন, তাঁদের নামই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে এবং বহু চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাঁরা অনুভব করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্ট শুক্রবার বিষয়টি স্পষ্ট করে দিল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর নির্দেশে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টের মামলাকারীরা নন, NIOS থেকে ডিএলএড করা সমস্ত যোগ্য চাকরিপ্রার্থীই এই নিয়োগ প্রক্রিয়াতে অংশ নিতে পারবেন।

হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে এখন দ্রুততার সাথে চাকরিপ্রার্থীদের নথি যাচাই করতে হবে। এরপর যারা যোগ্য প্রমাণিত হবেন, তাঁদের নাম বাছাই করে একটি নতুন মেধা তালিকা (Merit List) তৈরি করতে হবে। এই নতুন তালিকাভুক্তদের ২০২২ সালের প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে পর্ষদকে।

হাইকোর্টের এই নির্দেশ নিঃসন্দেহে NIOS থেকে ডিএলএড করা হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর জন্য এক বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পথে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে।