জিতেন্দ্রর UPI খুলে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলে সোনম, কে এই ব্যক্তি? রাজা রঘুবংশীর খুনের ঘটনায় নয়া মোড়

মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে ইন্দোরের ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিদিনই নতুন নতুন মোড় সামনে আসছে। স্ত্রী সোনম রঘুবংশীর হাতে স্বামী খুন হওয়ার এই ঘটনায় এবার সামনে এল এক নতুন নাম – জিতেন্দ্র রঘুবংশী। এই নামটি প্রকাশ্যে আসতেই খুনের রহস্য যেন আরও ঘনীভূত হয়েছে এবং তদন্তের গতি অন্যদিকে ঘুরতে শুরু করেছে।

কে এই জিতেন্দ্র রঘুবংশী?
পুলিশ সূত্রে খবর, জিতেন্দ্র রঘুবংশী হলেন সেই ব্যক্তি যার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সোনম রঘুবংশী ভাড়াটে খুনিদের টাকা দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, সোনমের ইউপিআই অ্যাকাউন্টও খোলা হয়েছিল জিতেন্দ্র রঘুবংশীর নামে।

যখন সোনমের দাদা গোবিন্দকে জিতেন্দ্র রঘুবংশীর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি এক অদ্ভুত তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। গোবিন্দ জানান, জিতেন্দ্র রঘুবংশী তাদের তুতো ভাই। তবে, কেন জিতেন্দ্র রঘুবংশীর নাম করে সোনম ইউপিআই অ্যাকাউন্ট খোলে, সে বিষয়ে গোবিন্দের মুখে কোনো স্পষ্ট উত্তর শোনা যায়নি।

জিতেন্দ্র রঘুবংশীর নাম এই ঘটনায় উঠে আসতেই সূত্রের মাধ্যমে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ্যে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে, সোনম হয়তো হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা নিয়ে এসে ভাড়াটে খুনিদের হাতে তুলে দিয়েছিল রাজাকে খুনের জন্য। অথবা, জিতেন্দ্র রঘুবংশীর নাম করে সোনম নিজেদের পারিবারিক ব্যবসা থেকে টাকা নিয়ে এসে ভাড়া করা গুন্ডাদের দেয়।

তবে, গোবিন্দ এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, জিতেন্দ্র তাদের পারিবারিক ব্যবসায় একজন কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। পারিবারিক ব্যবসায় জিতেন্দ্রর নাম কর্মচারী হিসেবে সংযুক্ত বলে দাবি করেন গোবিন্দ। সেই সঙ্গে হাওয়ালার সঙ্গে তাদের কোনো যোগ নেই এবং এসব মিথ্যে গুজব রটানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন সোনমের দাদা। গোবিন্দ আরও জানান, জিতেন্দ্র তার মামার ছেলে, যে তাদের পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং গোডাউনে জিনিসপত্র ওঠানো-নামানোর কাজ দেখাশোনা করেন। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর কদমে চর্চা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজা রঘুবংশীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন গোবিন্দ। রাজার মাকে জড়িয়ে তাকে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। পাশাপাশি, নিজের বোনের (সোনমের) যাতে ফাঁসি হয়, সেই দাবিও শোনা যায় গোবিন্দের মুখে। সবকিছু মিলিয়ে রাজা রঘুবংশীর খুনের ঘটনায় একের পর এক নতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে, যা মামলার জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। পুলিশ এখন এই জিতেন্দ্র রঘুবংশী এবং অর্থের উৎস নিয়ে আরও গভীর তদন্ত চালাচ্ছে।