OMG! একটি গাছে ১০০ প্রজাতির আম! নজির গড়লেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, লক্ষ্য এবার ৩০০….

একটি মাত্র গাছে ১০০ প্রজাতির আম ফলিয়ে নজির গড়লেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. অসীমকুমার মান্না। খেজুরির কুঞ্জপুর গ্রামের বাড়ি লাগোয়া তিন বিঘা জমিতে তিনি প্রায় ৫০০ দেশ-বিদেশের নানান প্রজাতির আমের বাগান তৈরি করেছেন। এই বাগানে বিশেষ আম গাছ রয়েছে প্রায় ১৫টি, যার মধ্যে একটি গাছেই এবার ১০০ প্রজাতির আম ফলিয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও, কোনো গাছে ৩০ প্রজাতির, কোনোটিতে আবার ৮৫ প্রজাতির আম ফলিয়েছেন। তার পরবর্তী লক্ষ্য, ১০০ প্রজাতির ফলন হওয়া গাছে ৩০০ প্রজাতির আম ফলানো!
দুই বছর আগে খেজুরি কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসর গ্রহণের পর থেকেই ড. অসীমকুমার মান্নার অধিকাংশ সময় কাটে এই আম বাগানে। তার ছোট ছেলে ডাঃ অর্পণ মান্না, যিনি পেশায় এমবিবিএস ডাক্তার, তিনিও বাবার মতোই আম বাগানে দেশ-বিদেশের নানান আম ফলানোর নেশায় মগ্ন। আমের টানেই তিনি বিভিন্ন দেশ সফর করেন। যে দেশেই যান, সেখান থেকে আমের চারা নিয়ে এসে বাগানে লাগান। এখন অর্পণকে আম বিশেষজ্ঞ বললে খুব একটা ভুল বলা হবে না, কারণ দেশ-বিদেশ থেকে আম বিশেষজ্ঞ হিসেবে এখন তাঁর কাছে আমন্ত্রণ আসে।
কীভাবে সম্ভব একটি গাছে এত প্রজাতির আম?
একটি গাছে ১০০ প্রজাতির আম ফলানো কি আদতে সম্ভব? জানা গেছে, আল্ট্রাহাইড্রেশন পদ্ধতিতে দেশীয় আম গাছে গ্রাফটিং করে (দেশীয় আমগাছ কোমর উচ্চতায় কেটে দেওয়ার পরে সেখান থেকে বেরোনো শাখা-প্রশাখার সঙ্গে দেশি এবং বিদেশি আম গাছের ডালের সংযোগ ঘটানো হয়) এটি সম্ভব হয়েছে। এই পদ্ধতিতেই ড. মান্না ও তার ছেলে এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন।
ড. অসীমকুমার মান্নার বাগানে শুধু দেশি নয়, রয়েছে বিভিন্ন বিরল বিদেশি আমও। হিমসাগর, কাটিমন, ল্যাংড়া, মল্লিকা, আম্রপালি, ভাণ্ডরাজ, রিগমা, চৌষা, কালী, রসবাহার, বেগুনফুলি, ফজলি-র মতো দেশি প্রজাতির পাশাপাশি বিদেশি প্রজাতির উল্লেখযোগ্য আম যেমন মিয়াজাকি, আপেল ম্যাংগো, ব্যানানা ম্যাংগো, চিয়াং মাই, রেড আইভরি, ন্যাম ডক মাই, পালমার, ব্যানানা কিং, থ্রি টেস্ট-সহ আরও বিভিন্ন আম রয়েছে। কিছু আম বড় হলে তার ওজন ১ থেকে ২ কেজিরও বেশি হয়, আবার এমনও আম রয়েছে যা কলার থেকেও লম্বা। এমনকি, থ্রি টেস্ট অর্থাৎ একটি আম থেকে তিন রকম স্বাদ পাওয়া যাবে সেরকম প্রজাতির আমও রয়েছে অসীমবাবুর বাগানে। তার ছোট ছেলের উদ্যোগে শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, আমেরিকা-সহ একাধিক দেশের আম গাছ লাগানো হয়েছে।
ড. অসীমকুমার মান্না জানান, “অবসর নেওয়ার পরে এই আম বাগানেই সময় কেটে যায়। বাগানে প্রায় ৫০০ প্রজাতির আম গাছ রয়েছে। ছোট ছেলে বিদেশ ঘুরে আমের চারা সংগ্রহ করে। সেগুলো লাগানো হয় বাগানে। এখন বিদেশি আমের চাহিদা রয়েছে। ফলে আমাদের দেশের পুরানো কিছু আম হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই আমরা মালদহ, মুর্শিদাবাদ-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আম সংগ্রহ করে বাগানে রাখার চেষ্টা করছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই বাগানে একটি দেশীয় গাছে আল্ট্রাহাইড্রেশন পদ্ধতিতে ১০০ প্রজাতির আম ফলানো হয়েছে। আরও বেশি হত। কিন্তু কোনো কোনো আম এক বছর অন্তর ফলন দেয়। তাই এবার অনেকগুলো প্রজাতির আম হয়নি। পাশাপাশি কোনো গাছে ৩০, কোনো গাছে ৪০, কোনো গাছে আবার ৮৫ প্রজাতির আম ফলেছে। আমাদের লক্ষ্য একটি গাছে ৩০০ প্রজাতির আম ফলানো।”
শুধু আম নয়, এই বাগানে একাধিক ফলের ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির গাছও রয়েছে, যা রাজ্যবাসীর নজর কেড়েছে। ড. অসীমকুমার মান্না এবং তার ছেলের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ একদিকে যেমন কৃষি গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে, তেমনই দেশের ঐতিহ্যবাহী আমের জাতগুলিকে সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।