স্ত্রীকে বাড়ি ফেরাতে মরিয়া, বাধা দেওয়ায় শ্বশুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ‘খুন’ করল জামাই

শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শ্বশুরকে কুপিয়ে ‘খুন’ করল জামাই। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির বেলাকোবা এলাকায়। ঘটনার পর অভিযুক্তকে স্থানীয়রা পাকড়াও করে উত্তমমধ্যম দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। মৃত ব্যক্তির নাম মৃগেন রায়, এবং অভিযুক্ত জামাই বিপুল রায়কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃগেন রায়ের মেয়ে সৌরভী রায়ের সঙ্গে বিপুল রায়ের প্রেমের বিয়ে হয়েছিল। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সৌরভীর উপর বিপুল নির্যাতন চালাত এবং তাকে মারধর করত। একসময় এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সৌরভী শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাপেরবাড়িতে ফিরে আসেন। বিপুল একাধিকবার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইলেও সৌরভী আর শ্বশুরবাড়িতে ফিরতে রাজি হননি। এই নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকদের সঙ্গে বিপুল রায়ের বিবাদ চলছিল বলে খবর। স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল ওই যুবক।
এই পরিস্থিতিতে সোমবার রাতে বিপুল শ্বশুরবাড়িতে যান। তাকে দেখে বাইরে বেরিয়ে আসেন সম্পর্কে শ্বশুর মৃগেন রায়। প্রথমে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়। এরপরই বিপুল ধারালো অস্ত্র নিয়ে শ্বশুরমশাইকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করেন।
এই ভয়ংকর ঘটনা দেখে বাড়ির লোকজন ভয়ে আর্তনাদ করতে শুরু করেন। তাদের চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। ক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা অভিযুক্ত বিপুল রায়কে পাকড়াও করে তাকে উত্তমমধ্যম দেন এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। রক্তাক্ত মৃগেন রায়কে দ্রুত উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ অভিযুক্ত বিপুল রায়কে গ্রেপ্তার করেছে। মারধরের ঘটনায় আঘাত পাওয়ায় বিপুলকেও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বিপুল কি পূর্বপরিকল্পনা করেই অস্ত্র নিয়ে রাতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিল? এই প্রশ্ন এখন উঠছে। নিহত মৃগেন রায়ের মেয়ে এবং বিপুলের স্ত্রী সৌরভী, তার স্বামীর কঠোরতম সাজার দাবি জানিয়েছেন।