পহেলগাঁও সন্ত্রাস হামলার পর প্রথমবার জম্মু-কাশ্মীরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর প্রথমবার উপত্যকায় পা রাখতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ৬ই জুন তিনি শ্রীনগর থেকে কাটরাগামী বন্দে ভারতের উদ্বোধনে অংশ নিতে সেখানে যাবেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা সন্ত্রাসবাদের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনার পর এক মাসেরও বেশি সময় কেটে গেছে। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারত তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। শুধু কূটনৈতিক মারই নয়, পাকিস্তানকে শায়েস্তা করতে সামরিক জবাব দিতেও ছাড়েনি ভারত।
পহেলগাঁও হামলার পর ৭ই মে মধ্যরাতে ভারতীয় বায়ুসেনা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে এক অভিযানে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর, সিন্ধ প্রদেশ এবং পঞ্জাব প্রদেশের শতাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে প্রত্যাঘাত চালায়, যা একের পর এক সন্ত্রাসী আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ ও বিরতির একাধিক পর্ব পেরিয়েছে।
এবার সেই সকল কঠিন পর্ব পেরিয়ে সন্ত্রাসী হানার ছাপ লেগে থাকা কাশ্মীরে পা রাখতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ আসলে সন্ত্রাসবাদকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানো। এক মাস আগে যে ভূমি রক্তের দাগে রঞ্জিত হয়েছিল, সেই ভূমিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের বার্তা দেবেন এবং সেই ছড়ি ঘোরাবেন।
যদিও মোদীর এই সফরপর্ব নিয়ে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, কাশ্মীরের এক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে সেখানকার বিজেপি নেতা রবীন্দ্র রায়না সর্বপ্রথম এই সফরের কথা জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, কাশ্মীরের প্রথম বন্দে ভারত সেদিনই উদ্বোধন হবে, যা এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।