দুই ঘন্টা পর শুরু, এক ঘন্টাতেই শেষ! রাশিয়া ইউক্রেন বৈঠকে হল টা কি?

রাশিয়ান ভূখণ্ডে ইউক্রেনের বিধ্বংসী ড্রোন হামলার একদিন পরেই ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত রাশিয়া-ইউক্রেন ‘শান্তি বৈঠক’ মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। সোমবার পূর্বনির্ধারিত এই বৈঠকের দিকে সকলের নজর ছিল, কারণ ২০২২ সালের পর এটি ছিল দুই যুযুধান দেশের দ্বিতীয় দফার মুখোমুখি আলোচনা। যদিও বৈঠকটি নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পরে শুরু হয়েছিল, তবে তুরস্কের জনৈক কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে এটি ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, উভয় দেশই নিজেদের মধ্যে ৬০০০ হাজার সেনার মৃতদেহ বিনিময় করতে রাজি হয়েছে। এর পাশাপাশি, বন্দি বিনিময়েও দুই পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ বৈঠক শেষে জানান, বন্দি বিনিময়ের ক্ষেত্রে গুরুতর আহত এবং কমবয়সীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তবে, স্থায়ীভাবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে এদিনের বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি বলেই জানা গেছে। মস্কো নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতিতে রাজি নয় বলেও উমেরভ উল্লেখ করেছেন। প্রসঙ্গত, রাশিয়ার তরফে আগেই যুদ্ধবিরতির শর্ত সম্বলিত একটি স্মারকলিপি ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছিল, যা ইউক্রেনের বিদেশ মন্ত্রকের এক মুখপাত্র পাওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তাইয়েব এরদোগান তার বক্তব্যে এই বৈঠকটিকে একটি “দুর্দান্ত বৈঠক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ভ্লাদিমির পুতিন, ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে একত্রে একটি বৈঠকের আয়োজন করা সম্ভব হবে। ইউক্রেনের তরফে জুনের শেষদিকে আবার আলোচনায় বসার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকের প্রথম দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও পরবর্তীতে তা নিয়ন্ত্রণে আসে। রাশিয়ার তরফে উপস্থিত ছিলেন পুতিনের সহকারী ভ্লাদিমির মেদিনস্কি। তিনি জানান, রাশিয়া নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ২-৩ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে যাতে সেখান থেকে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করা যায়।

এদিকে, ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি লিথুয়ানিয়ায় একটি বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানান যে, দুই পক্ষই নতুন করে বন্দি বিনিময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতির প্রধান কর্মকর্তা আন্দ্রি ইয়েরমাক জানিয়েছেন যে, সোমবারের বৈঠক চলাকালীন রাশিয়ার কাছে একটি নির্বাসিত শিশুদের নামের তালিকা পেশ করেছে ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া জোরপূর্বক এই শতাধিক শিশুকে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছে। এই শিশুদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার তরফে দাবি করা হয়েছে যে, ওই শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থেই তাদের ওখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

যদিও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো স্পষ্ট সমাধান আসেনি, মৃতদেহ এবং বন্দি বিনিময়ের মতো মানবিক বিষয়গুলিতে ঐকমত্য হওয়াটা এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।