তৃণমূল কর্মীর বাড়ি থেকে উদ্ধার বন্দুক ও বিপুল অস্ত্র! কিভাবে এল এত অত্যাধুনিক অস্ত্র?

মঙ্গলবার পানিহাটি পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বনাথ দে-র ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কর্মী নইম আলি ওরফে নেপালির বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের ভাণ্ডার উদ্ধার হল। পুলিশি অভিযানে একটি স্টেন গান, পাইপ গান, যুদ্ধে ব্যবহৃত নাইট্রো-অ্যামুনেশন কার্তুজ সহ প্রচুর অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় পানিহাটি জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ইতিমধ্যেই এই অস্ত্র ভাণ্ডারের ‘মালিক’ নেপালিকে আগরপাড়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বেশ কিছু বিস্ফোরক এবং বিদেশি বন্দুকও। একজন সাধারণ কর্মীর বাড়িতে এমন অত্যাধুনিক অস্ত্রের সম্ভার কিভাবে এলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। এর আগে সন্দেশখালিতে শাহজাহান গ্রেফতার হওয়ার পর তার বাড়িতেও এনএসজি তল্লাশি চালিয়ে বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরকের হদিশ পেয়েছিল, যা নিয়ে তৃণমূলের দিকে আঙুল উঠেছিল। আজকের ঘটনা যেন সেই সন্দেশখালির পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছেন অনেকে।

যদিও এই অভিযানে এনএসজি না এসে রাজ্য পুলিশই অস্ত্রগুলি উদ্ধার করেছে। কিন্তু ঠিক কী উদ্দেশ্যে নেপালি এই বিশাল অস্ত্রের ভাণ্ডার তৈরি করেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত জারি রেখেছে এবং নেপালিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এর পেছনের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই জায়গাটা গোটাটা অপরাধীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আর ওই খড়দাহে তৃণমূল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ওখানে একটা বাড়িতে তৃণমূলের অপরাধীদের অনুমতি ছাড়া ইটও লাগাতে পারবেন না।” তাঁর এই মন্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তী নেপালিকে দলের কর্মী বলে মানতে নারাজ। তিনি বলেন, “ওই লোকটা তৃণমূলের কোনও কর্মীই নয়। জেরা করলেই জানা যাবে, ও অর্জুন সিংয়ের লোক।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তৃণমূল নেপালি-কাণ্ড থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অস্ত্র উদ্ধারের এই ঘটনা পানিহাটির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে দোষারোপের পালা। তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে এই বিশাল অস্ত্র ভাণ্ডারের পেছনের আসল উদ্দেশ্য এবং এর সাথে জড়িতদের পরিচয় সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।