নয়ডায় অনলাইন প্রতারণার শিকার দম্পতি, ‘মিশো’-এর নামে খোয়ালেন লক্ষাধিক টাকা

চাকরি হারানোর পর অনলাইনে পার্ট টাইম কাজ খুঁজতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হলেন নয়ডার এক দম্পতি। ‘মিশো’ (Meesho) নামক একটি অনলাইন শপিং সংস্থার ছদ্মবেশে এক প্রতারক টেলিগ্রামের মাধ্যমে তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৩.৬৮ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং সাধারণ মানুষকে এই ধরনের অনলাইন প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

প্রতারণার ফাঁদ:
জানা গেছে, আদিত্য ওয়ার্ল্ড সিটি কলোনির বাসিন্দা মনোজ উপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি শর্মা সম্প্রতি নয়ডার একটি বেসরকারি কোম্পানির চাকরি হারান। এরপর তাঁরা অনলাইনে পার্ট টাইম কাজের সন্ধান করছিলেন। সেই সময়ই তাঁরা একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হন, যেখানে ‘মিশো’-এর নামে কাজের অফার দেওয়া হচ্ছিল।

প্রথমে তাঁদের মাত্র ১০০ টাকার একটি ‘টাস্ক’ (কাজ) করতে বলা হয়, যার বিনিময়ে তাঁরা ২০০ টাকা ফেরত পান। এরপর ৫০০ টাকা বিনিয়োগ করে ১০০০ টাকা ফিরে এলে তাঁদের বিশ্বাস আরও বাড়ে। এইভাবে টাস্কের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং বিনিয়োগের অঙ্কও বাড়তে থাকে। কিন্তু কয়েকটি টাস্কের পর টাকা ফেরত দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

অভিযোগ ও পদক্ষেপ:
টাকা ফেরত না পেয়ে দম্পতি টেলিগ্রামে কাস্টমার কেয়ারে অভিযোগ জানান। তখন তাঁদের বলা হয় যে, পুরো টাকা ফেরত পেতে হলে মোট ২০টি টাস্ক পূর্ণ করতে হবে। কিন্তু ১৭টি টাস্কের পর হঠাৎ কাজ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। বারবার অভিযোগ জানালেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

এই সময় পর্যন্ত তাঁরা মোট ৩,৬৮,১০০ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে অবশেষে তাঁরা ওয়েভ সিটি থানায় অভিযোগ জানান।

পুলিশের তদন্ত ও সতর্কতা:
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতারক যুবকটি দম্পতির সঙ্গে দিনরাত মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করেছিল এবং সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। ঘটনাটি যখন পুলিশের কানে পৌঁছায়, তখন তারাও হতবাক হয়ে যায়।

গাজিয়াবাদের ওয়েভ সিটি এলাকার এই ঘটনায় পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ৪১৮(৪) (বিশ্বাসভঙ্গ করে প্রতারণা) এবং আইটি অ্যাক্টের ধারা ৬৬ডি (কম্পিউটার সম্পদ ব্যবহার করে প্রতারণা) অনুযায়ী মামলা রুজু করেছে।

এসিপি প্রিয়শ্রী পাল জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে এ ধরনের অনলাইন প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সোজা রাস্তায় টাকা দ্বিগুণ” – এই ধরনের লোভে পা দেবেন না। চাকরি বা ইনভেস্টমেন্টের নামে হঠাৎ কেউ বেশি রিটার্ন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে সতর্ক হন। পুলিশ বা সাইবার সেলকে জানান, কারণ প্রতারকরা শুধু টাকাই নয়, আত্মবিশ্বাসও চুরি করে নেয়।